২৬ বছরে শেখ কামাল নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন: রাবি উপাচার্য

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৫ এএম, ০৬ আগস্ট ২০২২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেছেন, এই নশ্বর পৃথিবীতে সবকিছু শেষ হয়ে গেলেও মানুষের স্বপ্ন বেঁচে থাকে। স্বপ্ন, সভ্যতা ও ভবিষ্যৎ হচ্ছে মানুষের মনের গন্তব্য। কিছু মানুষ তাদের সময়কে অতিক্রম করে মানুষের মনে চিরস্থায়ী আসন করে নেন। সে রকমই একজন আমাদের শেখ কামাল। মাত্র ২৬ বছর বয়সী এক যুবক তার সময়কে অতিক্রম করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও আধুনিক খেলাধুলার পথিকৃৎ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে রাবির শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

উপাচার্য গোলাম সাব্বির বলেন, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও রাজনীতির মিশেল ঘটেছে শেখ কামালের জীবনে। তাই অল্প সময়ে তাকে ব্যাখ্যা করা দুরুহ একটি কাজ। তাকে জানতে হলে, পড়াশোনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের আমি শেখ কামাল সম্পর্কিত তিনটি বই পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

‘প্রথম বইটি হলো- আব্দুল গাফফার চৌধুরীর লেখা ‘শেখ কামাল যদি আজ বেঁচে থাকতেন’, দ্বিতীয়টি হলো- সুজাত মনসুরের লেখা ‘একজন শেখ কামাল’ ও তৃতীয়টি- শরৎ বাবলার লেখা ‘শেখ কামাল: ক্রীড়াঙ্গনের ধূমকেতু’।’

অনুষ্ঠানে মূল আলোচকের বক্তব্যে রাবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফায়েক উজ্জামান বলেন, ২৬ বছর বয়সে শেখ কামাল নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে একজন দেশের জন্য কতটুকু করতে পারেন? আমরা তার জীবনভিত্তিক আলোচনায় গেলে বুঝতে পারবো, এই সময়ের মধ্যে তার অর্জনগুলো কী?

তিনি বলেন, শেখ কামাল ভালো খেলোয়াড়, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। এই কথাগুলো সবসময় বললেও আমরা একটা কথা বলতে ভুলে যাই যে, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন।

সামরিক বাহিনীতে শেখ কামালের বর্ণাঢ্য জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ৬১ জন সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে শেখ কামাল ছিলেন একজন। পরবর্তীকালে প্রথম ব্যাচে তাদের কমিশন দেওয়া হয়।

‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হয়েছিলেন। ওই ৬১ জনের প্রশিক্ষণ শেষে যখন তাদের পোস্টিং দেওয়া হয়, তখন শেখ কামালের পোস্টিং হয় প্রধান সেনাপতির এডিসি হিসেবে। তিনি এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছিলেন।’

‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে যোগদানকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। সেনাবাহিনীর চাকরি তার জন্য উপযুক্ত নয়, এমনটি মনে করে তিনি ১৯৭২ সালের মাঝামাঝি সেনাবাহিনীর চাকরি ত্যাগ করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ফিরে আসেন। এরপর ঢাবি থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। শেখ কামাল না থাকলেও শেখ জামাল সেনাবাহিনীতেই ছিলেন এবং সেখানে থাকাকালীনই তাকে হত্যা করা হয়।’

এ সময় বঙ্গবন্ধুর পরিবার সম্পর্কে রটানো গুজবের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন অধ্যাপক মো. ফায়েক উজ্জামান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাবির শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. সালাহ উদ্দিন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল- ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক (অব.) অবাইদুর রহমান প্রামানিক।

এ সময় রাবির বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসইউজে/এমপি/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]