হেরে গিয়ে আমার ওপর প্রতিশোধ নিতে চাইছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: সামিয়া

সামিয়া রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমানকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে এক ধাপ নামিয়ে দুই বছর পর্যন্ত সহকারী অধ্যাপক রাখার সিদ্ধান্ত আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে গত ৪ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। এ রায়ের ফলে আইনি লড়াইয়ে হেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন তার ওপর প্রতিশোধ নিতে চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন এ শিক্ষক।

এরইমধ্যে গত ৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে সামিয়া রহমানকে দেওয়া চিঠির অনুলিপি বুধবার (১০ আগস্ট) গণমাধ্যমের হাতে আসে। চিঠিতে বলা হয়, চাকরি থেকে আগাম অবসরের আবেদন করেছেন সামিয়া রহমান। দেনা-পাওনা সমন্বয় সাপেক্ষে তার আবেদন অনুযায়ী আগাম অবসরের অনুমতি দিয়েছে সিন্ডিকেট। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট তার দেনা ১১ লাখ ৪১ হাজার ৬০১ টাকা পরিশোধ করার জন্য তাকে অনুরাধ করা হয় চিঠিতে।

তবে আগাম অবসরের সঙ্গে দেনা-পাওয়া সমন্বয়ের বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ‘প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের চেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন এ শিক্ষক।

বুধবার (১০ আগস্ট) রাতে হোয়াটসঅ্যাপে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে সামিয়া রহমান এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

সামিয়া রহমান বলেন, আমার অর্জিত ছুটি ছিল ১৫ নভেম্বর ২০২১ পর্যন্ত। সেদিন থেকে ৩১ মার্চ ২০২২ পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর আবেদন করি৷ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটি মঞ্জুর করে। পরে আমার ছেলে অসুস্থ থাকায় আমি আমার ছুটি শেষ হওয়ার আগে বিনা বেতনে ১ বছরের ছুটির আবেদন করি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটি মঞ্জুর করেনি। পরে আমি ৩১ মার্চ আগাম অবসরের আবেদন করি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটি এপ্রিল মাসে মঞ্জুর করে। কিন্তু সেটিতে ১৫ নভেম্বর থেকে ২০২১ থেকে আমাকে আগাম অবসর দেওয়া হয়।

তিনি এ প্রতিবেদককে উদাহরণ টানার জন্য প্রশ্ন করে বলেন, আপনি যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সেখান থেকে আপনি ১ সেপ্টেম্বর অবসরের আবেদন করেছেন, আর প্রতিষ্ঠান আপনাকে বলেছে গত ১ জানুয়ারি থেকে আপনাকে অবসর দেবে। এটি কি উচিত বা গ্রহণযোগ্য হবে? আমার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটিই করেছে। আমি ২২ বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছি। তারা আমাকে অবসরে যাওয়ার সময় আমার অধিকারগুলো বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো আমার কাছ থেকে পাওনা টাকা দাবি করে হুমকি দিচ্ছে। যা স্পষ্টতই মানবাধিকার লঙ্ঘন।

এ নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সামিয়া রহমান বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে লড়াই করে জয়ী হয়েছি। গত ৪ আগস্ট আমার পদাবনতি অবৈধ বলে উচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন। আমি এখন অবসর নিলে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে অবসর নেবো। কিন্তু আমি যেন তা না পারি সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চক্রান্ত করে আমাকে ৩ আগস্ট কলম দিয়ে লিখে তারিখ বসিয়ে চিঠি ইস্যু করে। আমাকে মেইল করে ৮ আগস্ট। আমার মনে হয় তারা উচ্চ আদালতের রায়ের পর ৬/৭ তারিখে এরকম একটা সিদ্ধান্ত নেয়। সেটিতে ৩ আগস্ট উল্লেখ করা হয়েছে, যেন আমি অবসরকালে সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার সুবিধাটুকুই পাই। তারা এটি নিয়েও আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন আচরণকে ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ ও প্রতিশোধমূলক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা আমার আইনি লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না। প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে আমার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এসব করেছে। আমি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো। আবারও আমি জয়ী হবো।

আল-সাদী ভূঁইয়া/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।