আলোহীন চোখে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন ৩ শিক্ষার্থীর

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৯:০১ এএম, ১৪ আগস্ট ২০২২

চোখে আলো নেই তাতে কি। শিক্ষার আলো থেকে তো আর বঞ্চিত হওয়া যায় না। তাই নিজেদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছেন তিন শিক্ষার্থী। এই তিন শিক্ষার্থী জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন। কিন্তু তাদের এই বাধা এগিয়ে যাওয়ার পথকে রুদ্ধ করতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তির বলেই এসেছেন এই পর্যন্ত।

শনিবার (১৩ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা দেন তারা। এই তিনজন হলেন তারিফ মাহমুদ চৌধুরী, তৃণা আক্তার সেতু ও আকাশ দাস। গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটে পরীক্ষা দিয়েছেন।

এসময় তাদের সহযোগী হিসেবে তিনজন ব্যক্তিকে নির্ধারণ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক মিতা শবনমের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা দেন এই শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জন্ম থেকেই তারিফ মাহমুদ চৌধুরী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। রাজবাড়ী বেগগাছি মুজাম্মেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালে এসএসসি ও ২০২১ সালে নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ঘ’ ইউনিটে পরীক্ষা দিয়ে পেয়েছেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সুযোগ। তবে এ বিষয়ে পড়তে ইচ্ছুক নন তিনি।

তারিফ মাহমুদের মা আফরোজা খান মজলিশ বলেন, তারিফ পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী। পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ বেশি।

jagonews24

একইভাবে আকাশ দাস আর চার-পাঁচটা ছেলের মতো কাজ করতে পারেন না। তার চোখেও আলো নেই। তিনি নরসিংদীর মৌলভি কারারচর তোফাজ্জেল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও মিরপুরের সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করেন। তার ইচ্ছা ভালো একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া।

অপর আরেকজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ত্রিনা আক্তার সেতু। তিনি এসেছেন গোপালগঞ্জ থেকে। লোহাচূড়া আলিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে পড়া শেষে ভর্তি হন মোকছেদপুর সরকারি কলেজে। এবার তিনি দ্বিতীয়বারের মতো ভর্তি পরীক্ষা দিচ্ছেন। প্রথমবার কোথাও ভর্তির সুযোগ না পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো প্রস্তুত করেছেন নিজেকে।

তৃনার বড় ভাই সোহেল খান বলেন, জন্ম থেকেই আমার বোন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। এভাবেই সে এত দূর এসেছে। বাকি পথ চলতেও অদম্য সে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ড. মিতা শবনম বলেন, এবার প্রথমবারের মতো এই তিনজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

জেডএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।