আন্দোলনরত চা-শ্রমিকদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ঢাবিতে মানববন্ধন

আন্দোলনরত চা শ্রমিকদের পক্ষে ঢাবিতে মানববন্ধন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা

২০২১-২২ সালের চুক্তি দ্রুত চূড়ান্তকরণ, বাস্তবায়ন ও দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলনরত চা-শ্রমিকদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা চা-শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর পাশাপাশি মাতৃকালীন সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতা ও মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, চা-শ্রমিকরা সুযোগ-সুবিধা ছাড়া মানবেতর জীবন কাটালেও বাগান মালিকরা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি না দিয়ে নিজেরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন।

বাংলাদেশ দলিত হিউম্যান রাইটস ফোরামের পক্ষ থেকে তামান্না সিং বারেক বলেন, আমরা এদেশে চার প্রজন্ম ধরে বসবাস করছি। ব্রিটিশ আমলে আমাদের মজুরি দেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তান আমলে আমরা ন্যায্য মজুরি পাইনি।

তিনি বলেন, আজ নিজেদের স্বাধীন দেশে বসবাস করলেও আমাদের অবস্থা পাকিস্তান আমলের মতোই। আমরা তো স্বাধীন দেশের নাগরিক, ভোট দিই, তাহলে আমরা মজুরির ক্ষেত্রে বঞ্চিত কেন হবো?

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর আর কোথাও চা-শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি থেকে এভাবে বঞ্চিত হন না। নেপাল, ভারত এমনকি পাকিস্তানের শ্রমিকরাও আমাদের থেকে বেশি মজুরি পান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সুদীপ্ত কুমার সুর্য বলেন, তিনশ টাকা মজুরি কী এখনকার বাজারে যথেষ্ট? একজন চায়ের দোকানের কর্মচারীকেও এত কম মজুরি দেওয়া হয় না। সাত রংয়ের যে চা খেয়ে আমরা মুগ্ধ হই, সে চায়ে মিশে রয়েছে শ্রমিকদের সাত রকমের কষ্ট।

বাগান মালিকদের চক্র সম্পর্কে সুর্য বলেন, চা বাগানের মালিকরা নিয়ম করে দিয়েছেন যে, একটি পরিবার থেকে একজনের বেশি বাগানে কাজ করতে পারবেন না। অন্যদিকে, মালিকরা একেকজন শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

‘এ শতকোটি টাকা চা-শ্রমিকদের রক্ত থেকে এসেছে। আমরা চা খাই না, শ্রমিকদের রক্ত খাই।

বর্তমানে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা, যা ২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশ চা সংসদ (মালিকপক্ষ) ও বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের মাঝে সই হওয়া চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী বাজার দরের সঙ্গে সংগতি রেখে মালিক পক্ষ ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে মজুরি বাড়ানোর কথা থাকলেও ১৯ মাসেও বাড়েনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে গত পাঁচদিন ধরে সিলেট বিভাগের সব চা বাগানে কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকরা।

আল-সাদী ভূঁইয়া/এসএএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।