‘জঙ্গি’ সন্দেহে শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ

জিয়া হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের বিক্ষোভ

প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ/ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুকে ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী মিফতাহুল মারুফ। এর জেরে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম’ ও ‘জঙ্গিবাদে’ জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তাকে পুলিশে সোপর্দ করেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বিল্লাল হোসেন। অবশ্য কিছুক্ষণ পরই ওই শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, যে অভিযোগে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওই শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের কারও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাও পায়নি পুলিশ।

এদিকে ওই শিক্ষার্থীকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার পথে হামলার শিকার হন ‘নির্যাতনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী মঞ্চ’-এর দুই সদস্য। এসব ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ সমাবেশ করে সংগঠনটি। সমাবেশ থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বিল্লাল হোসেনের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়।

আরও পড়ুন>> মেসেঞ্জারে রাজনৈতিক তর্ক, শিক্ষার্থীকে জঙ্গি বলে পুলিশে দিলো ঢাবি

সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে দিয়ে সূর্যসেন হল, মুহসীন হল প্রদিক্ষণ করে আবারো মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। এসময় তারা ছাত্রলীগের নির্যাতন ও প্রশাসনের ব্যর্থতা অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

jagonews24

সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, ‘সিফাত ও আহনাফকে যারা মেরেছে, তাদেরকে শনাক্ত করে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী মিফতাহুল মারুফ সমাবেশে পুরো ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মেসেঞ্জার গ্রুপে লেখা আমার সাধারণ একটি কথাকে ইস্যু করে হলের ছাত্রলীগ নেতারা আমাকে হল প্রশাসনের কাছে নিয়ে যান। প্রাধ্যক্ষ স্যার কোনো কিছু যাচাই না করেই আমাকে শাহবাগ থানা পুলিশে দিয়ে দেন। বন্ধু, সিনিয়র, জুনিয়র ও বিভিন্ন অ্যাক্টিভিস্টদের প্রচেষ্টায় আমি মুক্তি পেয়েছি। এমন অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার যেন আর কাউকে না হতে হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

মিফতাহুল মারুফ বলেন, ‘আখতার ভাই (ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা) যখন আমার সঙ্গে দেখা করতে যান, তখন তাকে আমি বলেছি- ঠিক আছি। আমাকে শারীরিক নির্যাতন না করা হলেও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমি এমন অবিচারের অবসান চাই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাহিত্য সম্পাদক জাহিদ আহসান সমাবেশ সঞ্চালনা করেন। অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আখতার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন।

অন্যদের মধ্যে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হাসান, আবু হানিফ প্রমুখ।

জানা গেছে, মিফতাহুল মারুফ নামে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী ‘চৌদ্দশিখা’ নামের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। মূলত ওই গ্রুপে তার শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকেন।

সেখানে আলোচনার একটি স্ক্রিনশট অন্য শিক্ষার্থীসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নজরে আসে। এরপর মিফতাহুল মারুফকে ডেকে হল প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে নিয়ে যান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সেসময় প্রাধ্যক্ষ ওই শিক্ষার্থীকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ ও ‘জঙ্গি’ অ্যাখ্যায়িত করে পুলিশে দেন।

আল-সাদী ভূইয়া/এএএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।