রাবির নান্দনিক হোটেলের মানবিক উদ্যোগ ‘সাসপেন্স মিল’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৯:৫১ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাদারবক্স হল হয়ে স্টেশন বাজারে যেতে প্রথমেই চোখ পড়ে নান্দনিক হোটেলের দিকে। হোটেলে প্রবেশ করতেই দেখা মেলে বিভিন্ন লেখা সম্বলিত কিছু লিফলেট। ‘সাসপেন্স মিল চালু রাখতে পারেন ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য’, ‘সাসপেন্স মিল আছে কি না খোঁজ করুন’, ‘অযথা ঋণ করবেন না’ ইত্যাদি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) স্টেশন বাজারের নান্দনিক হোটেলে অসহায় ও ক্ষুধার্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সাসপেন্স মিল চালু করেছেন হোটেলটির মালিক বাবু কর্মকার। বিষয়টি সবার নজর কেড়েছে।

jagonews24

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাসপেন্স মিলের উদ্ভাবক ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)। মুসলিম খেলাফতের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উন্নত দেশে তাদের রেস্তোরাঁগুলো এই পদ্ধতি চালু আছে। এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে চালু হলো ‘সাসপেন্স মিল’।

সাসপেন্স মিল কী

আপনি খাবার খেয়ে ক্যাশ কাউন্টারে বিল দিলেন। আপনি চাইলে আরেকজন মানুষের খাওয়ার মতো অতিরিক্ত আরেকটি মিলের টাকা হোটেল মালিকের কাছে রেখে দিতে পারেন। পরে ওই টাকায় আরেকজন খেতে পারবেন। কিন্তু তিনি জানতে পারবেন না তার টাকায় তিনি খাচ্ছেন। অনেক বুঝতে দেন না যে তিনি অর্থকষ্টে আছেন। লোক-লজ্জায় কারও কাছে বলতেও পারেন না। তাদের জন্য এই সাসপেন্স মিল।

jagonews24

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সাসপেন্স মিল সিস্টেম চালু নিঃসন্দেহে একটা ভালো উদ্যোগ। এ সিস্টেমের ফলে অসচ্ছল শিক্ষার্থী বা ক্ষুধার্ত ব্যক্তিরাও সাসপেন্স মিল খেতে পারবেন। তবে আমরা যারা সচ্ছল শিক্ষার্থী আছি নিজে খেয়ে কিছু অর্থ সাসপেন্স মিলের জন্য রেখে যাওয়া উচিত। আমার রেখে যাওয়া অর্থ অন্যের ক্ষুধা মেটাতে সাহায্য করবে।’

এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সাসপেন্স মিল কী সেটাই জানতাম না। যখন এর আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পারলাম তখন মনে হলো দোকান মালিককে ধন্যবাদ জানাই। এখানে শিক্ষার্থীরা হাত বাড়িয়ে দিলে ক্ষুধার্তরা একবেলা খাবার খেতে পারবেন। সবাইকে মানবিক এ কাজে এগিয়ে আসা উচিত।’

jagonews24

হোটেল মালিক বাবু কর্মকার জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত টাকা আমি একটি বক্সে রাখি। কোনো অসচ্ছল শিক্ষার্থী ৩০ টাকার খাবার খেলে তখন সেই বক্স থেকে ৩০ টাকা নিয়ে আমি আমার ক্যাশে রাখি।

তিনি আরও বলেন, এক মাস হয়েছে এ সিস্টেম চালু করেছি। শিক্ষার্থীরা ভালো সাড়া দিচ্ছেন। আজও দুজন সাসপেন্স মিল খেয়েছেন। সাড়া পেতে থাকলে এ সিস্টেম চালু থাকবে।

মনির হোসেন মাহিন/এসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।