ইডেনে ছাত্রী হেনস্তা

দায়ীদের শাস্তির দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩৯ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্রীদের যৌন হেনস্থা ও নির্যাতন এবং হলে আসন বাণিজ্যে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে ঢাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দাসে পরিণত করছে। বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রীই স্বীকার করেছেন, ইডেন কলেজের হলে ওঠা ছাত্রীদের জোরপূর্বক যৌন হেনস্থা করতো ছাত্রলীগ নেত্রীরা। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ইডেন কলেজ শাখার ১৬ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে। শুধুমাত্র ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত বা বহিষ্কার করেই ছাত্রলীগকে দায়মুক্ত করার ফন্দি করলে হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি অভিযোগ করে আখতার হোসেন বলেন, গোটা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসি, প্রক্টর ও শিক্ষকরা অসহায়ত্বের ভান ধরছেন। শিক্ষকরা কখনো শিক্ষার্থীদের সামনে অসহায় হতে পারেন না৷ এখানে অসহায়ত্বের ভান ধরে ছাত্রলীগের গুন্ডাদের সুবিধা দিয়ে তারাও সুবিধা নিতে চান৷

তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইডেনের নিরীহ মেয়েরা কষ্টে আছে, তাদের থাকার জায়গা নেই৷ তাদের ওপর জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করা হচ্ছে, যা ধর্ষণের সামিল। যারা এমন ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তাদের প্রতি কেউ বিরূপ ধারণা করবেন না। তারা আমার, আপনার বা কারও না কারও বোন। অতএব, এসব নির্যাতিতদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করার আওয়াজ তুলুন।

সমাবেশে ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী ইসরাত কেয়া বলেন, আমি ইডেন কলেজে নিজেকে শিক্ষিত হিসেবে গড়তে এসেছিলাম। ঢাকায় থাকার ব্যবস্থা না থাকায় আমাকে হলে থাকতে হতো। কিন্তু সিট সংকটের কারণে আমি প্রথমে লিগ্যাল সিটে উঠতে পারিনি।। তারপর ছাত্রলীগের নেত্রীকে ১২ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে হলে উঠি। কিন্তু সেখানে আমি দুদিনও থাকতে পারিনি।

তিনি বলেন, যারা পলিটিক্যালি হলে ওঠে তাদের দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রাম করানো হয়৷ যদি কেউ প্রোগ্রামে না যায় তাহলে তাকে কয়েকজনের মাঝখানে বসিয়ে চড়-থাপ্পড় মারা হয়। নেত্রীরা মিলে বাজেভাবে তাকে হেনস্থা করে।

ইসরাত কেয়া আরও বলেন, হলে উঠানোর সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১০-১২ হাজার করে টাকা নেওয়া হয়। এছাড়াও মাসে মাসে দুই হাজার করে টাকা দিতে হয়। হলের ক্যান্টিন, দোকান, ইডেনের সামনের দোকানগুলো থেকেও চাঁদা নেয় ছাত্রলীগ নেত্রীরা।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজু ভাস্কর্য থেকে ইডেন কলেজ অভিমুখে যাত্রা করে।

আল-সাদী ভূঁইয়া/এমকেআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।