জেলহত্যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায়: অধ্যাপক ইউসুফ

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
ক্যাম্পাস প্রতিবেদক ক্যাম্পাস প্রতিবেদক ঢাকা কলেজ
প্রকাশিত: ০৪:৫২ পিএম, ০৩ নভেম্বর ২০২২

ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেছেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে ও নেতৃত্বশূন্য করতেই জাতীয় চার নেতাকে জেলের বদ্ধ কুঠুরিতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।

বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যক্ষ ইউসুফ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর স্বাধীনতার বিপক্ষের কিছু সেনা সদস্য জেলহত্যার মতো নির্মম ঘটনা ঘটিয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারী সেনা সদস্যরাই দেশ থেকে চলে যাওয়ার আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তাদের এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের ফলেই নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, অর্থ ও জাতীয় রাজস্ব, বাণিজ্য ও শিল্প এবং পরিবহন মন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং স্বরাষ্ট্র, কৃষি, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান ৷

তিনি বলেন, জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করে মহান স্বাধীনতার চেতনা ও দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। একই বছরের ৩ নভেম্বর এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

সভায় ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ টি এম মইনুল হোসেন বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে এবং জেলহত্যা ঘটিয়েছে তারা স্পষ্টত স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। তাদের উদ্দেশ্যই ছিল দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ধ্বংস করে দেওয়া ও স্বৈরশাসনের অভ্যুত্থান ঘটানো। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মন-মগজ-মস্তিষ্ক থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ মুছে ফেলার মাধ্যমে পরাজিত শক্তির উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করাও তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু তাদের সেই উদ্দেশ্য কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক ড. মো. আব্দুল কুদ্দুস সিকদার।

তিনি বলেন, জেলহত্যার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। এরফলে তৎকালীন সময়ে দেশে বিরাট একটি সংকট তৈরি হয়। এরমধ্যে প্রধান সংকটগুলো হলো, জেলহত্যার ফলে বন্দির জন্য নিরাপদ আশ্রয় কারাগার অনিরাপদ হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে আদর্শিক পরিবর্তন ঘটে। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা পায়। সেনাবাহিনীতে দলাদলি ও গ্রুপিং সৃষ্টি হয়। রাজনীতিতে শুরু হয় নেতা বেচাকেনার খেলা এবং রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশ ঘটে।

এসব সংকটের প্রভাবে দীর্ঘদিন পর্যন্ত নানাভাবে দেশে আরও নতুন-নতুন সংকট তৈরি হয়েছে বলেও প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বেশ কয়েয়কজন শিক্ষক জেলহত্যা দিবসের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এতে ঢাকা কলেজের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ অন্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

নাহিদ হাসান/কেএসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।