শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

এক সেমিস্টারেই ব্যবহারিকে খরচ ১২০০, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২২

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে প্রতি সেমিস্টারে থাকে ৬-৯টি ব্যবহারিক। এসব ব্যবহারিক খাতায় লেখা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিকতা সম্পন্ন করতে একেকজন শিক্ষার্থীর খরচ হয় এক থেকে দেড় হাজার টাকা।

কৃষি, ভেটেরিনারি, ফিশারিজসহ অন্যান্য কৃষি বিষয়ক অনুষদ সরাসরি বিজ্ঞানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় প্রতি সেমিস্টারে ১০০ নম্বরের তাত্ত্বিক পরীক্ষার পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি বিষয়েই ১০০ নম্বরের ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকে। প্রতিটি ব্যবহারিকে প্রথম ও চূড়ান্ত মিলে (৫+৫) ১০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। তবে হাতের লেখা অস্পষ্ট, চিত্র অসুন্দর এবং উপস্থাপন সুন্দর না হলে দেওয়া হয় মাত্র ৬-৭ নম্বর।

শিক্ষার্থীরা জানান, ব্যবহারিক পরীক্ষায় ১০ নম্বরের জন্য কিনতে হয় ১২০-২০০ পেজের ব্যবহারিক খাতা। আবার জীববিজ্ঞান বিষয়ক কিছু কিছু ব্যবহারিকে বোটানি পৃষ্ঠা এবং সেটি মোড়ানোর জন্য হার্ড কভার প্রয়োজন পড়ে। বর্তমান বাজারে এসব পৃষ্ঠা ও খাতার দাম ৫০-৬০ শতাংশ বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে একই ব্যবহারিক পরীক্ষায় মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আবির্ভূত হয় বীজ অ্যালবাম, মসলা অ্যালবাম নামে বিভিন্ন রকম অ্যালবাম। এসব অ্যালবাম তৈরিতে শিক্ষার্থীদের বাজার থেকে কিনতে হয় ৪০-৫০ প্রকারের উচ্চমূল্যের বীজ ও মসলা। এ-ফোর (এ৪) পেজে আঠা দিয়ে সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট মসলা বা বীজের বিস্তারিত লিখতে হয়।

ওপরে দিতে হয় পাঞ্চ ফাইল অথবা হার্ড কভার। এতসব লেখা, অর্থ খরচ এবং সময় দিয়ে শিক্ষার্থীদের নম্বর বরাদ্দ থাকে ৫ এবং পরীক্ষায় দেওয়া হয় ৩-৫ নম্বর।

লেভেল-৩, সেমিস্টার-১-এর শুধু ব্যবহারিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের খরচ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, লেভেল-৩, সেমিস্টার-১-এ মোট পাঁচটি বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা হয়। ২৫০ পেজের ব্যবহারিক খাতায় হর্টিকালচারে ১৪০ টাকা, পরিসংখ্যানে ১১০ টাকা, এন্টোমোলজিতে ১৭০ টাকা, বায়োটেকনোলজিতে ১১০ টাকা এবং জেনেটিকসে বোটানি পেজ ও হার্ড কভার মিলে প্রায় ২০০ টাকা খরচ হয়। হর্টিকালচারে বীজ অ্যালবাম তৈরিতে ১৫০ টাকা এবং এন্টোমলজিতে কীটপতঙ্গের বক্স তৈরিতে শিক্ষার্থীপ্রতি ২৫০ টাকা প্রয়োজন হয়। ব্যবহারিক খাতার ওপর রঙিন পেজ দিয়ে মোড়ানোসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিকে এক সেমিস্টারেই শিক্ষার্থীপ্রতি খরচ ১১০০-১২০০ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শ্রাবণ জাগো নিউজকে বলেন, পৃথিবী যখন তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমরা আমাদের শিক্ষকের দেওয়া শিট থেকে হুবহু কপি করে ব্যবহারিক লিখে নম্বর অর্জন করছি। একটি ব্যবহারিকে মাত্র ১০ নম্বরের জন্য আমরা ৫০-৬০ ঘণ্টা সময় ব্যয় করছি যার কোনো আউটপুট আমাদের বর্তমান লেখাপড়া এবং বাহ্যিক জীবনে কাজে লাগে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ একমাত্র স্টেশনারি দোকানদার তোফাজ্জল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এখন সব খাতা-কলমের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ২০০ পৃষ্ঠার ব্যবহারিক খাতা আগে ছিল ১১০-১২০ টাকা; এখন ১৩০ টাকা। বোটানি প্রতি পেজ ছিল এক টাকা, এখন দেড় টাকা। বোটানি পেজের ওপরের হার্ড কভারের দাম বেড়ে ২০-৩০ টাকা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটকের দোকানদার গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘ব্যবহারিক খাতার দাম মোট তিন ধাপে বেড়েছে। ১২০ পেজের ব্যবহারিক খাতা আগে বিক্রি করেছি ৯০ টাকা, এখন বিক্রি করছি ১১০। আবার এ সপ্তাহে যে নতুন খাতা এনেছি সেগুলো কিনেছিই ১১০ করে। আমাদের বিক্রি করতে হবে ১২০ টাকা। কাগজের দাম যত বাড়ছে খাতার দামও তত বাড়ছে।’

ব্যবহারিক লেখা ও খাতার উচ্চমূল্য বিষয়ে কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. পরীমল কান্তি বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, ব্যবহারিক খাতায় দেখে লেখার যে পদ্ধতি তা পরিবর্তন করে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক থেকে কী শিখছে সে বিষয়ে তার ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরবে এমন পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। এটি একটি অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত হবে। তবে এই পদ্ধতি চালু হলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের ফলাফল কমে যাবে। কেননা দেখে লিখে ব্যবহারিকে ৫ এর মধ্যে ৪ বা এর বেশি পায় শিক্ষার্থীরা। যদি নিজেদের চিন্তা-ভাবনা লিখতে হয় তাহলে তারা সেভাবে গুছিয়ে লিখতে পারবে না। তবে কিছু শিক্ষার্থী অবশ্যই ভালো করবে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু কাগজসহ সবধরনের খাতা কলমের দাম বেড়ে গেছে সেজন্য শিক্ষার্থীদের একই পৃষ্ঠার দুই পাশেই লেখার পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। এ বিষয়ে আমি বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করবো।

এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।