রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

‘পরিবেশ বন্ধুকে’ বাঁচাতে নামানো হচ্ছে ব্যানার-ফেস্টুন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৩:৩১ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০২২

পরিবেশের বন্ধু গাছ। কিন্তু পেরেক মেরে সেই বন্ধুর বুক ক্ষত-বিক্ষত করার যেন হিড়িক পড়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে। গাছে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড-বিজ্ঞাপন টানানো হচ্ছে একের পর এক।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) রাবিতে পেরেকে ক্ষত-বিক্ষত ‘পরিবেশ বন্ধু’ এই শিরোনামে দেশের শীর্ষ স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল জাগো নিউজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা প্রশাসনের নজরে আসে। ফলে পরিবেশ বন্ধুকে বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছগুলো থেকে নামানো হচ্ছে ব্যানার-ফেস্টুন।

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গাছগুলোতে পেরেক ঠোকে লাগানো সাইনবোর্ড-ব্যানার, ফেস্টুন খুলতে দেখা যায়।

Rajshahi-University2.jpg

পেরেকের আঘাতে পানি, বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব ঢুকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এসব গাছের। এসব চিন্তা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখে যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, কাজলা গেট, প্যারিস রোড, টুকিটাকি চত্বর, পরিবহন মার্কেট, হলগুলোর সামনে, বিনোদপুর ও রেলস্টেশনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গাছগুলোতে পেরেক ঠোকে লাগানো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রচার-প্রচারণার সাইনবোর্ড-ব্যানার, ফেস্টুন ও বিজ্ঞাপন খোলা হচ্ছে। এসব ব্যানার খোলে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচর্যাকর্মীরা।

Rajshahi-University2.jpg

আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাকারিয়া সোহাগ জাগো নিউজকে বলেন, ‘গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছে পেরেক ঠুকলে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়। এতে তাদের ক্ষতি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব চিন্তা ভাবনা করে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেজন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. আসাবুল হক জাগো নিউজকে বলেন, আমরা গাছগুলো থেকে সাইনবোর্ড- ব্যানার খুলে ফেলার নির্দেশনা দিয়েছি। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কোনো শিক্ষার্থী, সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী যেন পেরেক ঠোকে সাইনবোর্ড-ব্যানার না লাগায় আমরা তাদের নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, যদি কেউ ব্যানার ফেস্টুন লাগায় তাহলে গাছে পেরেক ঠোকে লাগানো যাবে না। বাঁশ-দড়ি ব্যবহার করে টাঙাতে পারবে। নিষেধ করার পর যদি কেউ গাছে পেরেক ঠোকে সাইনবোর্ড-ব্যানার লাগায় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মনির হোসেন মাহিন/জেএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।