বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ থামলো ৪ ঘণ্টা পর

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:২৬ এএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২

দেওয়ালে চিকা মারা এবং হলের আধিপত্য নেওয়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে রাতে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে চার ঘণ্টার পর শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে এ সংঘর্ষ থামে। তবে ক্যাম্পাসে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিবাদে লিপ্ত হওয়া দুপক্ষ হলো শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী বিজয় গ্রুপ এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম নাছির উদ্দীনের অনুসারী ভিএক্স গ্রুপ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চবির এএফ রহমান হলের নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরেই বিজয় গ্রুপের হাতে ছিল। পুরো হলের দেওয়ালজুড়ে তাদের চিকা মারা আছে। কিন্তু ভিএক্সের কর্মীরা বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দিনভর নিজেদের গ্রুপের নাম সংবলিত চিকা মারে যা উত্তেজনার সৃষ্টি করে। শুক্রবার রাতে কয়েকটি ককটেলও বিস্ফোরিত হয়।

একপর্যায়ে হলের নিয়ন্ত্রণ নেয় ভিএক্স। বিজয়ের কর্মীদের মেরে হল থেকে বের করে দেয় তারা। পরে বিজয়ের কর্মীরা হলের আশপাশের মাঠে দেশীয় অস্ত্রসহ নিয়ে জড়ো হন। দফায় দফায় তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। উভয় পক্ষের সঙ্গে কয়েকবার আলোচনায় বসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে প্রশাসন।

সিদ্ধান্ত হয় উভয়পক্ষ স্বাভাবিক নিয়মেই হলে অবস্থান করবে। তবে হলের দেওয়ালে কোনো গ্রুপের চিকা থাকবে না।

এ বিষয়ে বিজয় গ্রুপের নেতা শাখা ছাত্রলীগের উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক নয়ন চন্দ্র মোদক বলেন, ‘হল দীর্ঘদিন থেকেই আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ভিএক্সের কর্মীরা হঠাৎ চিকা মেরে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। যা এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিয়েছি। এখন যে যার মতো হলে অবস্থান করছি।’

ভিএক্স গ্রুপের নেতা শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফ বলেন, ‘আমাদের ১০ জনের বেশি কর্মী আহত হয়েছেন। প্রথম থেকেই আমরা প্রশাসনের নির্দেশে চুপ ছিলাম। কিন্তু তারা দফায় দফায় হামলা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলেই বিভিন্ন গ্রুপের চিকা আছে। তাহলে এ হলে আমাদের চিকা কেন মুছে দেওয়া হবে?’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া জাগো নিউজকে বলেন, সামান্য চিকা মারাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। প্রথম থেকেই আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি। বর্তমানে সব স্বাভাবিক আছে। আমরা হলের সব চিকা মুছে ফেলবো। এছাড়া যারা হল ভাঙচুর করেছে এবং দেশীয় অস্ত্রসহ মহড়া দিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবো।

এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।