শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

ভোগান্তির শেষ নেই দুই ছাত্রী হলে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০২:৩৭ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২

ডাইনিং-ক্যান্টিনে খাবারের অস্বাভাবিক মূল্য, মানহীন খাবার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খাবার পানির সংকট, অনিয়মিত গ্যাস সংযোগসহ নানা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) আবাসিক দুটি ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা। নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের অভাবে মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা হল ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ছাত্রীরা।

শেখ হাসিনা হলের ছাত্রীদের অভিযোগ, ১০ তলা বিশিষ্ট হলের বেশিরভাগ ওয়াশরুমগুলোতে ঝরনা ও হাতল নষ্ট, সাবান রাখার জায়গা নেই। নেত্রীদের তলায় নিয়মিত পরিষ্কার করা হলেও বাকি তলাগুলো বেশিরভাগ সময় থাকে অপরিচ্ছন্ন। হল থেকে নিয়মিত গ্যাসবিল নেওয়া হলেও দীর্ঘদিন চুলা খুলে রাখা হয়েছে। ক্যান্টিনের স্বাদহীন ও মানহীন খাবারের মানোন্নয়নেও উদ্যোগ নেই হল প্রশাসনের। এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দিলেও ঠিক করার উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। উল্টো শিক্ষকদের কাছে কটু কথা শুনতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেখ হাসিনা হলের একাধিক ছাত্রী বলেন, ‘আমাদের হলে শিক্ষার্থীবান্ধব অভিভাবক কেউ নেই। মূলত আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলা, দাবি আদায়ের জন্য কেউ নেই। সমস্যা নিয়ে কিছু বলতে গেলেই আমাদের সিট বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়। সব হলের প্রভোস্ট পরিবর্তন হলেও এত সমস্যার পরও দীর্ঘদিন শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট পরিবর্তন হয় না। অন্যদিকে ছাত্রী প্রতিনিধিরাও হল প্রভোস্টের ভয়ে মুখে কুলুপ এঁটে থাকেন। ফলে ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না আমাদের।

২০ ব্যাচের ছাত্রী নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘এখন শীতকাল চলছে, অনেকেরই থায়রয়েড বা অন্য সমস্যার জন্য গরম পানির প্রয়োজন। পিরিয়ডের ব্যাথার জন্য হলেও গরম পানি দরকার। সেটা আমরা কীভাবে করব? দুদিন পর পর চেকিং করতে আসে। হিটার পেলে ছুড়ে ফেলে দেয় আর বৈদ্যুতিক দামি জিনিস পেলে হাজার টাকা জরিমানা করে। গ্যাস দেওয়ার পর কেউ বৈদ্যুতিক জিনিস ব্যাবহার করলে চেকিং কিংবা জরিমানা মেনে নেওয়া যায়। জরিমানা করতে তাদের নূন্যতম বিবেকবোধ হয় না যে এতগুলো টাকা কীভাবে সাধারণ ছাত্রীরা দেবে। এ অসহায় ছাত্রীদের ওপর জরিমানা বসানো অনেক সহজ।’

শেখ হাসিনা হলের ছাত্রীদের রোহিঙ্গা উল্লেখ করে জান্নাতুল তমা বলেন, ‘প্রতি বছর পুরো ক্যাম্পাস ২৬ মার্চ কিংবা ১৬ ডিসেম্বরে আলোকসজ্জা করা হলেও শেখ হাসিনা হলে হয় না। ফজিলাতুন্নেছা হলে সুসজ্জিত পিঠা উৎসব হয় অন্যদিকে আমাদের হয় না।’

ফজিলাতুন্নেছা হলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পানির সমস্যা তাদের পিছু ছাড়ে না। ছেলেদের প্রতিটি হল ও শেখ কামাল ভবনের প্রতিটি তলায় খাবার পানির ব্যবস্থা করলেও তাদের এখানে সে ব্যবস্থা নেই। খাবার পানি থাকে না বেশিরভাগ সময়, থাকলেও নিচতলা থেকে নিয়ে আসতে হয় এবং দীর্ঘ লাইন ধরে।

অন্যদিকে ফুটিয়ে পানি পান করার সেই উপায়ও নেই। পানি ফোটানোর সামান্য বৈদ্যুতিক হিটারের জন্যও চেকিং হয়। পানির সমস্যার সমাধানে তেমন কোনো উদ্যোগও নিচ্ছে না হল প্রশাসন। অন্যদিকে গ্যাস বিল নেওয়া হলেও গ্যাস লাইন বন্ধ করে রেখেছে প্রশাসন।

অভিযোগের বিষয়ে কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা হলের সহকারী প্রভোস্ট মার্জিয়া হাবিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রভোস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

প্রভোস্ট ড. আয়েশা আক্তারের মোবাইল নম্বরে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর একাধিকবার যোগাযোগে চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বেগম ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রভোস্ট ড শাহানাজ পারভীন জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের হলে পানির একটা ফিল্টার চালু আছে। পানির সংকট নিরসনের বড় ফিল্টার লাগানো হচ্ছে যা সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করি।

গ্যাসের বিষয়ে তিনি বলেন, গ্যাসের বিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেওয়া হয়, হল থেকে কোনো বিল নেওয়া হয় না।

এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।