রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

৮ থেকে নেমে তিন ট্রিপে চলছে বাস, নেই পর্যাপ্ত চালক

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাবি
প্রকাশিত: ১১:০৬ এএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২

অডিও শুনুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাসগুলো আগে যেখানে আটটি ট্রিপে চলতো এখন সেখানে মাত্র ১৪টি রোডে তিনটি ট্রিপে চলছে এসব বাস। নেই পর্যাপ্ত চালকও। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে চালকদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৪টি রোডের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি বাসের ট্রিপ সংখ্যা ছিল আটটি। পরবর্তীকালে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তিনটি ট্রিপ কমিয়ে পাঁচ ট্রিপে চলে ২৭টি বাস। এর কিছুদিন পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির জন্য যে ট্রিপটি ছিল তা বাতিল করে চারটি ট্রিপ করা হয়।

এদিকে, চলতি বছর সরকারঘোষিত জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নতুন যে অফিস সূচি (সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা) ঘোষণা করা হয় তখন দুটি ট্রিপ কমিয়ে দুই ট্রিপেই চলতো এসব পরিবহন। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে একটি ট্রিপ বাড়িয়ে বর্তমানে তিন ট্রিপে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো।

রাবি পরিবহন দপ্তর সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয় বাসস্ট্যান্ড থেকে সকাল ৮টা ৫ মিনিটে প্রথম রুট ছেড়ে যায়। দ্বিতীয় রুট দুপুর ১টা ১০ মিনিট ও তৃতীয় রুট বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যায়। অন্যদিকে, ক্যাম্পাস থেকে ৮টা ৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো নির্দিষ্ট স্টপেজ থেকে ৮টা ৩৫ মিনিটে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ১টা ১০ মিনিটের বাসগুলো ১টা ৩০ মিনিটে ও বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের বাসগুলো ৪টা ৩৫ মিনিটে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।

আরও জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সচল বাস রয়েছে ৩০টি। তার বিপরীতে চালক রয়েছেন মাত্র ২২ জন। চালক সংকটের কারণে ১৪ রুটে চলছে এসব বাস।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস শুরু হয়। ৮টা ৩৫ মিনিটে ক্যাম্পাসের বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসেন অনেক শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করে তাদের ক্লাস শুরু করতে হয়। এছাড়া বেলা ১১ টায়ও ক্লাস থাকে অনেক শিক্ষার্থীর।

বছরে একজন শিক্ষার্থী ৩৬০ টাকা পরিবহন ভাড়া দিচ্ছেন। কিন্তু পরিবহনের সঠিক সুযোগ- সুবিধা পাচ্ছেন না বলে তাদের অভিযোগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী পলাশ হোসেন বলেন, ২০১৬ সাল বা তারও আগে বাসের ট্রিপ সংখ্যা ছিল আটটি কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পরও ট্রিপ কমিয়ে তিনটি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জ্বালানি তেলের দাম ও বৈশ্বিক রাজনীতির অজুহাত দেখাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা না করে যদি জ্বালানি তেলের সাশ্রয় করার চিন্তা করে তাহলে পরিবহন দপ্তর বন্ধ করে দেওয়ায় ভালো।

বাংলা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আবিদ হাসান বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে আসছে বাসের ট্রিপ সংখ্যা। একজন শিক্ষার্থীর কাছে সময়ের মূল্য অনেক। দিনদিন ট্রিপ সংখ্যা কমিয়ে শিক্ষার্থীদের সময় এভাবে নষ্ট করা মোটেও ঠিক হচ্ছে না। বিদ্যুৎ-জ্বালানি সাশ্রয় করতে চাইলে বিভাগের এসিগুলো ফুলটাইম বন্ধ রাখলেই পারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের প্রশাসক মোকছিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, পূর্বে প্রশাসন থেকে পরিবহন দপ্তরে জন্য যে পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ থাকতো এখনো তাই আছে। আগের বাজেট দিয়ে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল কেনা যেত সেটা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। কারণ জ্বালানি তেলের মূল্য আগের থেকে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাসের ট্রিপ বাড়ানোর জন্য আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং আবেদন জমা দিয়েছি।

আগামী জানুয়ারি থেকে বাসের চারটি ট্রিপ চালু হতে পারে বলে জানান তিনি।

মনির হোসেন মাহিন/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।