ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

হলের কক্ষ দখল নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১২ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুক হক মুসলিম হলে কক্ষ দখল নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর করা হয়। রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হল প্রশাসন ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে হলের বর্ধিতাংশের একটি রুম দখল নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পড়ে ঘটনা পুরো হলে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় হলে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ঘটনা নিয়ে ছাত্রলীগের গ্রুপগুলোর ভিন্ন বক্তব্য ও বর্ণনা পাওয়া যায়। হল শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি থাকলেও কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি হওয়ার পর তা অকার্যকর হয়ে যায়। হলে কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অনুসারীদের চারটি গ্রুপ রয়েছে। এই গ্রুপগুলোর কয়েকজন গ্রুপের নেতৃত্ব দেন। তাদেরও রয়েছে আলাদা আলাদা অনুসারী। অনুসারীদের বেশি রুমে সিট দিতে পারা নিয়ে গ্রুপগুলোর মধ্যে একটি ‘শীতল প্রতিযোগিতা’ চলে। আর এ প্রতিযোগিতা রূপ নেয় সংঘর্ষে।

ছাত্রলীগের একটি পক্ষ জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের ৩০১৫ নম্বর কক্ষে দলবল নিয়ে গিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে বের করে দেন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এসময় হলে থাকা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

সেখানে সৈকতের অনুসারীরা তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। তাৎক্ষণিক তারা (সৈকতের অনুসারী) সাদ্দাম-ইনানের অনুসারীদের ওপর চড়াও হন। এসময় সাদ্দাম-ইনানের কয়েকজন অনুসারী আহত হন। পরে হল শাখা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা উপ-সম্পাদক শাওন চৌধুরী, দপ্তর উপসম্পাদক জিহাদুল ইসলাম, সমাজসেবা সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদ, উপ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক আল-কাওসারসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল মূল ভবনের ২০১ নম্বর কক্ষে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাইমের কক্ষে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় আশপাশের কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা ধাওয়া করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

DU-4.jpg

এরপর সৈকতের অনুসারীরা আবারও সংঘবদ্ধ হয়ে হলের ২০১২, ২০১৩, ২০১৪ নম্বর কক্ষের আলো নিভিয়ে হামলা করে। এতে দুইপক্ষ সংঘর্ষের লিপ্ত হয়। এতে দুই পক্ষের লোকজন আহত হন।

অভিযুক্ত ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের অনুসারীরা জানান, ফজলুল হক মুসলিম হলের বর্ধিত ভবনের ৫০০৬ নম্বর কক্ষটি আমাদের দখলে ছিল। সোমবার রাতে সাদ্দাম হোসেন, শেখ ইনান ও মাজহারুল কবির শয়নের অনুসারীরা কক্ষটি দখল করতে আসে। তখন আমরা তাদরে বাধা দেই। এতে বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরে সাদ্দাম হোসেন, শেখ ইনান ও মাজহারুল কবির শয়নের অনুসারীরা সৈকতের অনুসারীদের পাঁচটি কক্ষে তালা দিলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

এ বিষয়ে হল ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাইম জাগো নিউজকে বলেন, কোনো ধরনের উস্কানি ছাড়া আমার কক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের অনুসারীরা হামলা করে ও আমার কক্ষ ভাঙচুর করে। এসময় আমার কক্ষে বিভিন্ন হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা দাওয়াত খাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় আমি আতঙ্কিত। আমি হল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করবো।

আনোয়ার হোসেন নাইমের কক্ষে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা। তারা এ ঘটনার ব্যবস্থা নিতে ভোর সকালেই মধুর ক্যান্টিনে অবস্থান নেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না দিলে তারা কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন।

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা এ ঘটনা শুনেছি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সবসময় শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার পরিবেশ সুরক্ষিত রাখার জন্য কাজ করছে। গতকাল (সোমবার) রাতে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করেছে তাদের বিরুদ্ধে একাডেমিক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে আমরা হল প্রশাসনকে বিনীত অনুরোধ করেছি। সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে আমরা অভ্যন্তরীণভাবে এ ঘটনার তদন্ত করছি।

এ বিষয়ে ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শাহ মো. মাসুম জাগো নিউজকে বলেন, আমরা এ ঘটনায় জরুরি বৈঠক ডেকে হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষককে প্রধান করে ছয়জনের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তাদের অবিলম্বে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলেছি। প্রতিবেদন পেলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আল-সাদী ভূঁইয়া/আরএডি/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।