আ.লীগ নেতার ভাইয়ের মারধরে যুবকের মৃত্যু


প্রকাশিত: ০৮:৫৮ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৭
আ.লীগ নেতার ভাইয়ের মারধরে যুবকের মৃত্যু

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার শরিকল মহিষা গ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার ভাইয়ের হামলায় যুবক নাজমুস সাকিব হাওলাদারের (২৫) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

সাকিব শরিকল ইউনিয়নের মহিষা গ্রামের জালাল হাওলাদারের ছেলে। তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের কেউ ভয়ে মুখ খুলছেন না।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, নিহত সাকিব মাদকআসক্ত ছিল। শনিবার শরিকল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোল্লার সৎ ভাই নাসির মোল্লা প্রকাশ্যে সাকিবকে বেধড়ক মারধর করে। রোববার সকালে নিজ বাড়িতে সাকিব খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে বেলা ১১টার দিকে তাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

শাকিবের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা জানান, ঘটনার দিন তিনি বাপের (বাবা) বাড়ি ছিলেন। তার স্বামী হাসপাতালে ভর্তির কথা শুনে ওইদিন বিকেলে তিনি ছুটে আসেন। শেরে-বাংলা হাসপাতালে নেয়ার পথেই স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুম বিল্লাহ বলেন, শারীরিক জখম (ফিজিক্যাল অ্যাসাল্ট) অবস্থায় রোববার বেলা ১১টার দিকে সাকিবকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভর্তির ফরম ও রেজিস্টার খাতায় উল্লেখ রয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে সাকিবকে ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

শরিকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই গাজী অহিদুল ইসলাম বলেন, মাদকসেবী নাজমুস সাকিবকে মাদকসহ গত বছরের ১১ জুন আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের বিচারক তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

শনিবার সাকিবের ভাই মো. সবুজ আমার কাছে এসে জানায় সাকিব ঘরের সবাইকে মারধর করছে। তাকে (শাকিল) যেন আবার গ্রেফতার করে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসার কথা বলে চলে যায়। সবুজ লিখিত অভিযোগ নিয়ে আর আসেনি।

এ ব্যাপারে নিহত সাকিবের ভাই সবুজ হাওলাদার বলেন, এ ধরনের খবর ঠিক নয়। আমার ভাইকে মারবে কেন? এ ধরনের খবর গুজব। আমার ভাই মাদকাসক্ত ছিল না। মাঝে মাঝে ধূমপান করতো।

সাইফ আমীন/এআরএ/এমএস