Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জুন ২০১৭ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে অনুমোদনহীন সমিতির দৌরাত্ম্য


কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯:৪৬ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৭, সোমবার
কক্সবাজারে অনুমোদনহীন সমিতির দৌরাত্ম্য

কক্সবাজার শহরজুড়ে গজে উঠেছে অনুমোদনহীন অসংখ্য সমিতি। নেই কোনো অফিস, সাইনবোর্ড। এরপরও ইচ্ছেমতো চলছে আর্থিক লেনদেন। ঋণের নামে ঠকানো হচ্ছে সাধারণ ব্যবসায়ীদের। আদায় করা হচ্ছে উচ্চহারে সুদ। অথচ তাদের ব্যাপারে কোনো মাথা ব্যথাই নেই প্রশাসনের-এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু কক্সবাজার শহরের বড়বাজার কেন্দ্রিক রয়েছে অনুমোদনহীন অন্তত ৫টি সমিতি। বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, মাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, ২০১৪ সমিতি, ২০১৫ সমিতি, ২০১৬ সমিতি ইত্যাদি নামে শহরে ছড়িয়ে গেছে।

সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিনিয়োগ করছে সমিতিগুলো। তারা লোভনীয় শর্তে বিনিয়োগ করছে। ফাঁদে পড়ে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ নিতে যাচ্ছেনা।

অভিযোগ রয়েছে, বিনিয়োগ গ্রহীতাদের লিখিত-অলিখিত দুইভাবেই জমা দিতে হয় স্ট্যাম্প ও চেক। অন্যথায় কাঙ্ক্ষিত ঋণ মিলে না। তাদের কারণে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে প্রতি বছর।

অভিযোগ রয়েছে, সমিতির টাকায় গুটিকয়েক ব্যক্তি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনেছেন। পরের টাকায় তারা কোটিপতি।

অন্যদিকে ঋণ নিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন। আবার অনুমোদনহীন এসব সমিতিতে ঋণের পাশাপাশি জমানো সঞ্চয় ফিরিয়ে পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে গ্রাহকরা। এসবের পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে প্রতি বছর কোটি টাকার রাজস্ব। তারা কিসের ভিত্তিতে লেনদেন করছে, তা সংশ্লিষ্ট দফতরের অজানা। সাধারণ ব্যবসায়ীরা সমিতির নামে এসব ‘হায় হায়’ কোম্পানির তদারকসহ কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে।

মাছ বাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, কিছু নেতার কাছে সাধারণ ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে তাদের ঋণ নিতে হয়। সমিতিকে দিতে হয় ১২ থেকে ১৮ শতাংশ সুদ। আর সমিতির নাম ব্যবহার করে চিহ্নিত কয়েকজন ‘জিরো থেকে হিরো’ হয়েছেন। এসব সুবিধাভোগীদের অর্থের উৎস্য অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের।

জানা গেছে, বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতিতে প্রায় দেড়শত গ্রাহক রয়েছে। এই সমিতির বিনিয়োগ প্রায় ৩ কোটি টাকা। মো. সেলিম নামে এক ব্যক্তি গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে থাকেন।

অন্য আরেকটি মাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির মূল হর্তাকর্তা মাহবুবুল আলম। তিনি একাই সব করে থাকেন। বুরু ও শাহাদাত নামে আরও দুইজন এই সমিতিতে কাজ করেন। তাদের বিনিয়োগও প্রায় ৩ কোটি টাকা। গ্রাহক সংখ্যা দুই শতের কাছাকাছি। অথচ আর্থিক লেনদেনে তাদের কোনো বৈধতা নেই।

এ বিষয়ে মাহবুবুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি সমিতির কোনো পদে নেই বলে দাবি করেন। তবে এক সময় ‘সদস্য’ ছিলেন বলে স্বীকার করেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক প্রীতম কুমার চৌধুরী বলেন, অনুমোদন ছাড়া সঞ্চয়-বিনিয়োগ করার সুযোগ নেই। যারা বিধি তোয়াক্কা না করে মানুষ ঠকানোর ফাঁদ বসিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অতি শিগগিরই তদন্তপূর্বক এসব সমিতির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে জানাবেন।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছ থেকে সঠিক তথ্যও চান জেলা প্রশাসক।

সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/এমএস

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Jagojobs