Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৭ | ১২ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

হাঁটতে পারেন না কিন্তু রিকশা চালান নাসির


মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:১৪ এএম, ২১ এপ্রিল ২০১৭, শুক্রবার | আপডেট: ০৩:৩৯ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৭, শুক্রবার
হাঁটতে পারেন না কিন্তু রিকশা চালান নাসির

শারীরিক উচ্চতা দেড় ফুট। হাঁটাতো দূরের কথা, দু’পায়ে দাঁড়াতেই পারেন না তিনি। এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতে অন্যের কাঁধে চাপতে হয়। অথচ রাস্তায় তিনি একজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই রিকশা চালান এবং এটাই তার পেশা।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ফোর্ড নগর এলাকায় প্রতিবন্ধী মো. নাসিরের (২৮) এই রিকশা চালানো যে দেখে সেই অবাক হয়।

ফোর্ড নগর এলাকায় বসেই কথা হয় সাহসী জীবন সংগ্রামী নাসিরের সঙ্গে। তিনি জানান, জন্মের পর থেকে তার দুই পা বিকলাঙ্গ। পায়ে ভর করে দাঁড়াতে পারেন না। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল কারো কাছে হাত পাতবেন না, যেকোনো একটি কর্ম করে খাবেন। সংসারের অস্বচ্ছলতার কারণে পড়াশুনা হয়নি। এলাকায় একটি চায়ের দোকান দিয়েই কর্মজীবন শুরু।

manikganj

চার বছর আগে চলে আসেন ঢাকায়। মীরপুরে প্রথমে চায়ের দোকান শুরু করেন।এর মাঝে বিয়েও করেন তিনি। চায়ের দোকানে সংসার চলছিল না। এরপর পেশা হিসেবে বেছে নেন রিকশা চালানোর মতো কঠিন কাজ। কিন্তু হঠাৎ রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় বিপাকে পড়েন নাসির।

এরপর মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর এলাকায় তার এক আত্বীয়ের কাছে চলে আসেন। সেখানেই এখন রিকশা চালাচ্ছেন তিনি। নিজের উপার্জন দিয়ে নাসির আরো তিনটি রিকশা কিনেছেন। সেগুলো ভাড়া দেয়া। ভাড়া বাসায় গড়ে তুলেছেন রিকশা গ্যারেজও।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নাসিরের রিকশায় সিটের জায়গায় বালিশ দিয়ে বিশেষ কায়দায় উচু করা হয়েছে। স্বজনরা তাকে কাঁধে করে এনে সেখানে বসিয়ে দেন। এরপর রিকশা নিযে বেরিয়ে পড়েন নাসির। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও রাস্তায় একজন পুরোদস্তর রিকশাচালক নাসির। দেখে বোঝাই যায় না তিনি একা রিকশায় বসতে পারেন না।

manikganj

নাসির জাগো নিউজকে জানান, নিজের আগ্রহ থেকেই রিকশা চালানো শিখেছেন। মানুষের কাছে হাত না পেতে নিজে কর্ম করেন। এটাই তার সুখ। কোনো কষ্ট অনুভব হয় না। ভবিষৎ কোনো পরিকল্পনাও নেই নাসিরের। বাকি জীবনটা যেন এভাবেই কাটে সবার কাছে সেই দোয়া চান তিনি।

সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, প্রতিবন্ধী নাসিরকে রিকশা চালানো দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। যেখানে অন্য প্রতিবন্ধীরা ভিক্ষাবৃত্তি করছেন সেখানে নাসিরের এই সাহসী জীবন সংগ্রাম অবশ্যই অন্যদের অনুপ্রেরণা জুগাবে।

রিকশাচালক নাসির ব্যক্তিগত জীবনে সাত মাসের এক কন্যা সন্তানের জনক। তার গ্রামের বাড়ি ভেলা জেলার ইলিশা বাজার এলাকায়। দুই বোন আর তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনিই সবার বড়।

বি.এম খোরশেদ/এফএ/এমএস

আপনার মন্তব্য লিখুন...