ছাত্রীর মুখে গামছা বেঁধে নির্যাতন : দুই শিক্ষিকা গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ১০:৩৩ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৭ | আপডেট: ১২:১৩ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০১৭
ছাত্রীর মুখে গামছা বেঁধে নির্যাতন : দুই শিক্ষিকা গ্রেফতার

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় একশ' টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে মাদরাসা ছাত্রী কামরুন নাহার সুমাইয়ার (৮) মুখে গামছা বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দুই শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার সন্ধ্যায় গৌরনদী উপজেলার দিয়াসুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি মাদরাসার শিক্ষিকা হাফিজা বেগম ও শাওড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মাদরাসার অপর শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তার লিজাকে গ্রেফতার করে।

এর আগে বিকেলে খাদিজাতুল কোবরা (রাঃ) মহিলা কওমি মাদরাসার সুপার খাদিজা বেগমসহ ৪ শিক্ষককে আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় মামলা করেন মাদরাসা ছাত্রী সুমাইয়ার মা রেনু বেগম।

রেনু বেগম জানান, তার একমাত্র কন্যা সুমাইয়াকে ওই মাদরাসায় প্রায় সাড়ে তিনবছর পূর্বে ভর্তি করেন। এরপর থেকেই তাকে (সুমাইয়া) মাসিক ৩ হাজার টাকা চুক্তিতে মাদরাসার আবাসিক হলে রাখা হয়। শুক্রবার সকালে মাদরাসার এক ছাত্রী গোপনে তাকে ফোন করে জানায় মাদরাসার ৩ শিক্ষক সুমাইয়াকে বৃহস্পতিবার রাতে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। খবর পেয়ে তিনি সকাল ১০টার দিকে মাদরাসার আবাসিক হল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় সুমাইয়াকে উদ্ধার করেন।

মাদরাসার (সুপার) খাদিজা বেগম তাকে জানান, অপর এক ছাত্রীর একশ’ টাকা চুরির ঘটনায় সুমাইয়াকে শাসন করা হয়েছে। তবে কোনো ছাত্রীর টাকা চুরি হয়েছে তা তিনি (সুপার) বলতে পারেননি।

রেনু বেগম আরও অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একশ’ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে বড় মাদরাসার সুপার খাদিজা বেগম ও শিক্ষিকা রোকসানা এবং বাংলা শিক্ষিকা হাফিজা বেগম মিলে সুমাইয়ার মুখে গামছা বাঁধে। এরপর খাদিজা বেগমের নির্দেশে মাদরাসার আবাসিক হলের রোকসানা গুনে গুনে তার মেয়েকে ৬০টি ও বাংলা শিক্ষক হাফিজা ১০০টি বেত্রাঘাত করেছে। এতে তার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরেও তাকে (সুমাইয়া) রাতের খাবার দেয়া হয়নি। খবর পেয়ে তিনি সকাল ১০টার দিকে মাদরাসার আবাসিক হলে উপস্থিত হয়ে গুরুতর অবস্থায় সুমাইয়াকে উদ্ধার করে গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি করেন।

অভিযোগের ব্যাপারে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাদরাসার প্রধান সুপার খাদিজা আমার স্ত্রী। টাকা চুরির ঘটনায় ছাত্রী সুমাইয়াকে মাদরাসার ২ শিক্ষিকা বেত্রাঘাত করায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষিকা রোকসানা ও হাফিজাকে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও চিকিৎসাধীন সুমাইয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। আজ সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে ২ শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি ২ শিক্ষিকাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

সাইফ আমীন/জেএইচ