সতীনের ছোড়া গরম পানিতে ঝলসে গেলেন ছোট সতীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৭:২৬ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
সতীনের ছোড়া গরম পানিতে ঝলসে গেলেন ছোট সতীন

বড় সতীনের ছোড়া গরম পানিতে শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ (ছোট সতীন) সুবর্ণা অধিকারী (১৯)।

ঘটনাটি ঘটেছে জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের সোমাইরপাড় গ্রামে। বুধবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুবর্ণা অধিকারী জানান, গত ৩০ বছর পূর্বে তার স্বামী সত্য রঞ্জন অধিকারী বড় সতীন কাজলী রানীকে বিয়ে করেন।

দাম্পত্য জীবনে তাদের কোনো সন্তান না হওয়ায় বড় সতীন কাজলী রানীর সম্মতিতে এক বছর আগে তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন। বিয়ের পর প্রথমে তাদের দুই সতীন বেশ কিছুদিন স্বাভাবিক জীবন যাপন করেন।

এরই মধ্যে কয়েক মাস পূর্বে তাদের দুই সতীনের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়। এ ঘটনার জেরধরে বড় সতীন কাজলী রানী ঘটনার দিন রোববার রাতে কৌশলে তার (ছোট সতীন) সুবর্ণার শরীরে এক গামলা গরম পানি ছোড়ে মারে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখতে তাকে চাপ দিতে থাকে স্বামী ও সতীন।

পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার সকালে সুবর্ণাকে গোপনে উপজেলা কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের বিছানায় চারদিন ধরে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন সুবর্ণা। বুধবার দুপুরে বিষয়টি সর্বত্র জানাজানি হলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশ্রাফুল ইসলাম শাওন জানান, সুবর্ণার শরীরের বিভিন্ন অংশের অন্তত ২০ শতাংশ ঝলসে গেছে। চিকিৎসায় ধীরে ধীরে তার উন্নতি হচ্ছে।

স্বামী সত্য রঞ্জন অধিকারী বলেন, তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ হলেও ঘটনার দিন কোনো ঝগড়া হয়নি। বড় স্ত্রী তাকে জানিয়েছে, বিদ্যুৎ না থাকায় বাগানে গরম ভাতের মার ছোড়ার সময় ভুল ক্রমে সুবর্ণার গায়ে গিয়ে পড়েছে।

এদিকে, সুবর্ণার বাবা উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের হারান বাইন জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।

সাইফ আমীন/এএম/জেআইএম