বিয়ে করেই ছাড়ল প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে থাকা প্রেমিকা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৭:১৫ এএম, ০৫ অক্টোবর ২০১৭

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ছোট খোচাবাড়ি গুচ্ছগ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনের ৩ দিন পর অবশেষে স্বার্থক হয়েছেন শিউলি (২০) নামে এক তরুণী।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রেমিক ও প্রেমিকার বাড়ির লোকজনের সমঝোতার মধ্য দিয়ে তাদের বিয়ে হয়েছে বলে ইউপি চেয়ারম্যান পয়গাম আলী নিশ্চিত করেছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ছোট খোচাবাড়ি গুচ্ছগ্রামের মতিউর রহমানের (বকমারী) কলেজ পড়ুয়া মেয়ে শিউলীর (২০) সঙ্গে একই গ্রামের সফিকুলের ছেলে নেহারুলের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এক পর্যায়ে মেয়েটিকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় ছেলেটি।

পরে কোনো উপায় না পেয়ে মঙ্গলবার থেকে ছেলেটির বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয় মেয়েটি। পরে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলে অবস্থা বেগতিক দেখে ছেলেটি আত্মগোপনে চলে যায়। মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে মেয়ের পরিবার থেকে মীমাংসার জন্য আলোচনা হয়। কিন্তু ছেলের পরিবার তা মেনে নিতে রাজি হয়নি।

বুধবার রাতে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা বিয়ের দাবিতে তরুণীর অনশন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করলে এলাকাবাসী ও প্রশাসনের চাপে ছেলের পরিবার বিয়েতে রাজি হয়। পরে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে কলেজ পড়ুয়া শিউলীর (২০) সঙ্গে প্রেমিক নেহারুলের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

নববধূ শিউলী জানান, নেহারুলের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। সে তাকে বিয়ের আশ্বাস দেয়। কিন্তু হঠাৎ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে উপায় না পেয়ে তার বাড়িতে চলে আসি। ৩ দিন পর অবশেষে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হলো।

বর নেহারুল জানান, শিউলীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সংসার চালানোর সক্ষমতা আপাতত না থাকায় পরে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। শিউলী সেই কথা মানতে নারাজ হয়ে বাসায় চলে আসে। অবশেষে দুই পরিবারের সমঝোতায় বিবাহ সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে মীমাংসার জন্য আলোচনা হয়। কিন্তু ছেলের পরিবার কোনোভাবেই বিয়েতে রাজি হয় নাই। অবশেষে স্থানীদের চাপে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে শিউলি ও নেহেরুলের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

রবিউল এহসান রিপন/এফএ/আরআইপি