গোয়ালঘরে বেঁধে রাখা শিশুটির ঠাঁই হয়েছে পুনর্বাসন কেন্দ্রে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৭:৩০ এএম, ০৫ নভেম্বর ২০১৭

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের আইতলা গ্রামে গোয়ালঘর থেকে উদ্ধার হওয়া ছয় বছরের শিশু লাবনী খানের আপাতত ঠাঁই হয়েছে পুনর্বাসন কেন্দ্রে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশেই স্থায়ী ঠিকানা মিলবে লাবনীর। শনিবার তাকে উদ্ধারের পর ইউনিয়ন সমাজসেবা কর্মী আনসার আলী বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় এক বছর আগেই লাবনীর বাবা আফজাল খান তালাক দেন লাবনীর মাকে। সেসময় লাবনীকে তার মা সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলেও আফজাল তাতে বাধা দেন। পরবর্তীতে আফজাল খান বিয়ে করেন। আর তা কাল হয়ে যায় লাবনীর জন্য। সৎ মায়ের নির্দেশে মাত্র ছয় বছর বয়সী লাবনীর ঠাঁই হয় বাড়ির গোয়ালঘরে। লাবনীকে খাবার দেয়া বন্ধ করে দেয় সৎ মা রূপা বেগম। এখানেই শেষ নয়। গোয়াল থেকে যেন বের হতে না পারে সে জন্য তাকে বেঁধে রাখা হতো।

খুলনা সমাজসেবা অধিদফতরের সিএমএম কোর্টের প্রবিশনাল অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শনিবারই সবাইকে আদালতে হাজির করা হয়। সেখান থেকে লাবনীকে রাতে পাঠিয়ে দেয়া হয় নগরীর গল্লামারীস্থ শেখ রাসেল দুঃস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে। রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হয় পরবর্তী নির্দেশনার জন্য। কিন্তু আজ একজন আইনজীবীর মৃত্যু হওয়ায় আদালত পরবর্তী দিন ধার্য করবেন। লাবনীর চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে ডুমুরিয়া থানার ওসির কাছে তিনি ঘটনাটি শোনেন। এরপর শনিবার সকালে ওই বাড়িতে যান। তখনো মেয়েটি ওই গোয়ালঘরের মধ্যে আটকা ছিল। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। মেয়েটির ওপর এমন নির্যাতন করা হয়েছে যে সে অস্বাভাবিক আচরণ করে। সে অপুষ্টিতেও ভুগছে।

ডুমুরিয়া থানার ওসি হাবিবুল হোসেন বলেন, লাবণীর বাবা, সৎমা ও দাদীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আলমগীর হান্নান/এফএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :