খুলনায় বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৮:৩২ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৮:৩৭ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৭
খুলনায় বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ

খুলনা মহানগরীর সবচেয়ে বড় ওষুধের বাজার হেরাজ মার্কেটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল, বিক্রি নিষিদ্ধ ও যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। বুধবার র‌্যাব-৬ ও জেলা প্রশাসনের অভিযানের দ্বিতীয় দিনে হেরাজ মার্কেটের দ্বিতীয় তলার একটি গোডাউন ও একটি শোরুম থেকে এসব ওষুধ জব্দ করা হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

জব্দকৃত ওষুধের মধ্যে রয়েছে সরকারি বিক্রি নিষিদ্ধ, অনিবন্ধিত, ভেজাল, নিম্নমান, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং ভারতীয় আমদানি নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক ওষুধ। এর আগে মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানকালে মালিক না পাওয়ায় উল্লিখিত দু’টিসহ সন্দেহজনক ৪টি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেন।

khulna-rab-medicine-pi

অভিযানে র‌্যাব-৬ এর পক্ষে নেতৃত্বদানকারী সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. নূরুজ্জামান বলেন, হেরাজ মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত শোরুম কমলেশের মালিকানাধীন পাপ্পু মেডিকেল হল এবং দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত আব্দুল লতিফের মালিকানাধীন সালমা ড্রাগ হাউজের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ওষুধ ভর্তি বিপুল পরিমাণ কার্টন জব্দ করা হয়। ওষুধগুলো ট্রাক ভর্তি করে র‌্যাবের কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন বলেন, মূলত অভিযান শুরু হয় মঙ্গলবার। সে দিন গোডাউনগুলোর মালিক পাওয়া যায়নি। এ কারণে সিলগালা করে দেয়া হয়। সব প্রকার টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে আজ বুধবার অভিযান চালোনো হয়। সেখানে সরকারের যেসব ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণের কথা সেগুলো পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ওষুধও পাওয়া গেছে। দোকানের মালিক পাওয়া যায়নি বিধায় সাজা দেয়া সম্ভব হয়নি। দোকান সিলগালা করা হয়েছে যাতে মালিক ধরা পড়ে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার নগরীর হেরাজ মার্কেটে র‌্যাব-৬ ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে ওই মার্কেটে তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় গিয়ে দেখা যায়, সব কয়টি গোডাউন তালা ঝুলানো রয়েছে। অবশ্য র‌্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেকেই গোডাউনে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপন করেন। ওইসব গোডাউনের সামনে রাখা কার্টনগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ফুড সাপ্লিমেন্ট সিরাপ ছিল। অনেক সিরাপের বোতলে লেভেল ছাড়া ওষুধ দেখা যায়। পরবর্তীতে গোডাউনের মালিক খুঁজে না পাওয়ায় সিলগালা করা হয়।

আলমগীর হান্নান/আরএআর/জেআইএম