নওগাঁয় পানিফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৭:৩৭ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

জলাবদ্ধ জমিতে পানিফল চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন নওগাঁর কৃষকরা। কম উৎপাদন খরচ, পরিশ্রম ও স্বল্প সময়ে অধিক ফলন হওয়ায় আগ্রহী হচ্ছেন তারা। এতে কর্মসংস্থান হচ্ছে স্থানীয় নারী পুরুষদের। তবে পানিফলে পঁচামিনা রোগ দেখা দেয়ায় লাভের একটা অংশ চলে যাচ্ছে কীটনাশকে। 

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে পানি ফলের আবাদ করা হয়েছে। আর এ পানিফল কৃষি সমৃদ্ধিতে নতুন সম্ভবনার দ্বার খুলেছে। বন্যার কারণে খাল, বিল, লেক ও জলাশয়ে পানি আসায় গত বছরের তুলনায় এবছর পানিফলের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে।  পানিতে ভেসে থাকা শাপলার মতো এ গাছটি সিংড়া বা পানিফল নামে পরিচিত। খাল, বিল, জলাশয় ও রাস্তার ধারে জমে থাকা পানিতে এখন দেখা মিলছে এ ফলটি। নওগাঁ সদর উপজেলার খাগড়া বিল ও মরাবিলাসহ আশপাশের বিল এলাকায় এ ফল চাষ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বছরের বেশিভাগ সময় বিল জলাবদ্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে কৃষকরা বেছে নিয়েছেন পানিফলের চাষ। পাতার নিচে ধরে আছে থোকা থোকা লাল, কালচে ও সবুজ রঙের পানিফল।

jagonews24

আষাঢ় মাসের বৃষ্টিতে যখন জলাশয়গুলোতে পানি জমতে শুরু করে তখন পানিফলের চারা ছেড়ে দেয়া হয়। এর মাস তিনেক পর ভাদ্র মাস থেকে গাছে ফল আসা শুরু করে। এখন ফলের উৎপাদন, উত্তোলন ও বিপণনে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ী ও চাষিরা। শুরুতে ফল কম আসলেও প্রতিদিনই ফল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব ফল এখন যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। এর শাঁস অত্যান্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। প্রতি কেজি পানিফল বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়।

কিন্তু পানিফলে পঁচামিনা রোগ হওয়ায় এর লাভের একটা অংশ চলে যাচ্ছে কীটনাশকে। কৃষি অফিস থেকে কোনো পরামর্শ না পাওয়ায় কীটনাশক কোম্পানির প্রতিনিধিদের পরামর্শে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক স্প্রে করছেন কৃষকরা। মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক স্প্রে করায় দেশীয় প্রজাতির মাছ মারা পড়ছে। 

jagonews24

সদর উপজেলার খাগড়া গ্রামের সাদেক হোসেন বলেন, প্রায় সাড়ে চার বিঘা জমি এক বছরের জন্য ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ইজারা (লিজ) নিয়েছেন। জমিতে বেশির ভাগ সময় পানি জমে থাকে। সেখানে স্বল্প সময়ে পানিফল চাষ করে ভালো লাভ পেয়ে থাকেন। প্রতি বিঘায় গড়ে প্রায় ৫০ মণ পানিফল উৎপাদন হয়। পানি সরে গেলে সেখানে আবার বোরো আবাদ করেন। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে স্বচ্ছল ভাবে চলতে পারেন।

নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, উপজেলার নিচু অঞ্চলগুলোতে পানিফল চাষ করা হয়ে থাকে। দেশি জাতের এ পানিফলে তেমন রোগবালাই হয় না। যদি রোগ হয়ে থাকে সামান্য পরিমাণ ওষুধ ব্যবহার করলেই হয়। পানিফল চাষে উদ্বদ্ধু করতে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এই ফল চাষে অনেক বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে। এতে একদিকে কৃষকরা যেমন লাভবান হচ্ছেন বেকারত্বও দূর হচ্ছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

আব্বাস আলী/এফএ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :