বাসায় ডেকে বোনের প্রেমিককে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ১০:৪৩ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে আসলেও রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কলেজছাত্র আল আমিন নয়নকে (২২) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। মূলত প্রেমিকার ভাইয়ের হাতেই খুন হন নয়ন।

২০১৪ সালের অলোচিত এ ঘটনার তিন বছর পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রংপুর।

নিহত নয়ন ওই উপজেলার সোনারায় গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

শনিবার দুপুরে পিবিআই রংপুর অফিসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান, পিবিআই রংপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার।

তিনি জানান, আল আমিন নয়নকে (২২) নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে রেললাইনে মরদেহ রেখে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচারণা চালানো হয়।

এ ঘটনায় নিহত নয়নের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল ছয়জনকে আসামি করে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি প্রথমে বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশ, পরে সিআইডি এবং সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম তদন্ত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে।

পরবর্তীতে বাদীর নারাজির প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআই রংপুর জেলাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। মামলার তদন্তভার পেয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক হোসেন আলী ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহারভুক্ত আসামি জুয়েলকে গত ২৩ নভেম্বর গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে অন্যদের নাম প্রকাশসহ আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামি তুষারকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার দুই আসামি হলেন- পীরগাছা থানাধীন তাম্বুলপুর গ্রামের মৃত জলিল ফকিরের ছেলে জুয়েল (২৮) এবং একই গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে তুষার (২২)।

মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নিহত নয়নের সঙ্গে একই থানার তাম্বুলপুর ফকিরপাড়া গ্রামের জলিল ফকিরের মেয়ে রুনির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি রুনির পরিবার মেনে নিতে পারেনি। এ কারণে ঘটনার কিছু দিন আগে থেকে আসামিরা নয়নকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।

২০১৪ সালের ৬ এপ্রিল নয়ন গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রেমিকা রুনি মোবাইলে নয়নকে তার বাড়িতে আসতে বলেন। পরে নয়ন তার বন্ধু গ্রেফতার আসামি তুষারসহ প্রেমিকার বাড়িতে যায়।

সেখানে যাওয়ার পর জুয়েলসহ অন্য আসামিরা তাদের দুইজনকে একসঙ্গে দেখতে পেয়ে নয়নকে আটক করে এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রুনির বাড়ি থেকে বাইরে নিয়ে যায়।

সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর নয়নকে গলাকেটে হত্যা করে আসামিরা। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখে এবং ট্রেনে কাটা নিশ্চিত করে সকলেই বাড়ি চলে যায় সবাই। এসবের মূলে ছিল প্রেমিকার ভাই জুয়েল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, মামলাটি তদন্তাধীন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।

জিতু কবীর/এএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :