প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল হোতাসহ আটক ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ১১:২১ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ ছাত্রসহ ৬ জনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

এ সময় ৫টি এন্টি জ্যামার ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস, ৫টি ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ব্লুটুথ ইনডাকশন (ইয়ারফোন), প্রশ্নপত্র ফাঁসের কাজে ব্যবহৃত ১১টি মোবাইল সেট (সিমসহ), অতিরিক্ত ২টি সিমকার্ড, ১টি হেডফোন এবং ৩টি পেন ড্রাইভ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার সকালে আরশেদ আলী কনস্ট্রাক্টর গলির নাহার ম্যানশনের নিচতলার ভাড়াটিয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মুয়িদুর রহমান বাকির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- যশোরের বাঘারপাড়া থানার বলরামপুর গ্রামের মো. মুরাদ মোল্লার ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মারুফ হোসাইন মারুফ (২২), পটুয়াখালীর দুমকীর কার্তিকপাশা গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের হাওলাদারের ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য আলমগীর হোসেন শাহিন (২৪), পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার কলেজপাড়া এলাকার মো. জাহিদুল ইসলামের ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মাহমুদুল হাসান আবিদ (২৩), পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া গ্রামের গাজী হাফিজুর রহমানের ছেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মুয়ীদুর রহমান বাকী (২২), পটুয়াখালীর দুমকীর লেবুখালী গ্রামের আবুয়াল হোসেনের ছেলে ঢাকার মোহাম্মদপুর ডিগ্রি কলেজের বিবিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রাকিব আকন (২১) এবং পটুয়াখালীর গলাচিপার পানপট্টির জাফর আহম্মেদের ছেলে গলাচিপা ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাব্বির আহম্মেদ প্রিতম (২৩)।

barisal

আটকদের মধ্যে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন শাহিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের অন্যতম হোতা এবং তিনি ঢাকার সিআইডি পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বরিশাল নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোড পুলিশ কমিশনারের অস্থায়ী কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আটকদের সঙ্গে ৩ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী যোগাযোগ করেছিল। তাদের কাছে ১ লাখ করে চাওয়া হয়েছিল। তাদের সঙ্গে চুক্তি করলে ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীরা এই চক্রের দেয়া এন্টি জ্যামার ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস শরীরের সঙ্গে বেঁধে ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ব্লুটুথ ইনডাকশনের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে পারতো এবং বাইরে থেকে এই চক্রের সদস্যরা তাদের উত্তরপত্র সরবরাহ করতো। কিন্তু তার আগেই তাদের আটক করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার উত্তম কুমার পাল, মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবু নাসের ও সহকারী কমিশনার মো. নাসির উদ্দিন মল্লিকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাইফ আমীন/এএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :