ঘুষ নিয়ে আসামি ছেড়ে দেয়ায় ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০১:০১ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০১:০৮ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০১৭

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় কলেজছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী সাকির গোমস্তা (১৭) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফাহিমকে গ্রেফতারের পর মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগে ওসি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মফিজুল ইসলামকে। গত মঙ্গলবার দুপুরে পালরদী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় যুবলীগ কর্মীরা সাকিরের ওপর হামলা চালায়।

মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাকিরের মৃত্যু হয়। নিহত সাকির উপজেলার আশোকাঠি গ্রামের আইয়ুব আলী গোমস্তার ছেলে ও পালরদী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স বেপারি নিহত সাকিরকে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে হামলাকারীরা উপজেলা যুবলীগের সক্রিয়কর্মী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নিহত সাকিরের মা আলেয়া বেগম ও বড় ভাই জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা সাকিরের ওপর হামলাকারী ও হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামি ফাহিমকে (১৮) ঘটনাস্থল থেকে ধরে গৌরনদী থানার এসআই শামসুউদ্দিনের কাছে সোপর্দ করে। এরপর ওই এসআই শামসুউদ্দিন আসামি ফাহিমকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। ওইদিন সন্ধ্যায় থানার ওসি মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে ফাহিমকে ছেড়ে দেয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ফাহিমকে ধরে থানার নেয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন গৌরনদী থানার ওসি মনিরুল ইসলাম। ওসি আসামি ফাহিমকে ছেড়ে দিতে বললে ওই এসআই আসামিকে ছেড়ে না দিয়ে ডিউটি অফিসারকে বুঝিয়ে দেন।

গত ২২ নভেম্বর পালরদী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মানববন্ধন চলাকালীন পরিদর্শনে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মফিজুল ইসলাম (মিঠু)। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওসি মনিরুলের বিরুদ্ধে সাকির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ফাহিমকে থানায় ধরে নিয়ে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। এছাড়া এ সংক্রান্ত খবর জাগো নিউজ ও একাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত হলে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ওসি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আসামি ছেড়ে দেয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মফিজুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে আগামী ৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তদন্তে ওসি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাইফ আমীন/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :