চরমোনাই মাহফিলে রোহিঙ্গা ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০২:৩২ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০২:৪৮ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৭
চরমোনাই মাহফিলে রোহিঙ্গা ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা

মুসলিম উম্মাহর শান্তি, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের অবসান ও শান্তি এবং দেশবাসীর কল্যাণ কামনায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বরিশালে চরমোনাই দরবার শরিফের তিন দিনব্যাপী ওয়াজ মাহফিল।

বুধবার সকাল পৌনে ৯টায় শুরু হওয়া ২৫ মিনিট স্থায়ী মোনাজাত পরিচালনা করেন চরমোনাই পীর আলহাজ হজরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

লাখ লাখ মুসল্লির কান্না আর আমিন আমিন ধ্বনিতে মাহফিল এলাকায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। মাহফিলের মাঠ উপচে আশপাশের বাড়ির বাগান, আঙ্গিনা, নদীর তীরসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েন মুসল্লিরা।

মোনাজাতের আগে ফজরের নামাজের পর শেষ বয়ানে চরমোনাই পীর দেশে আল্লাহ ও রাসুলের আইন বাস্তবায়ন করতে আগামী নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পরকালে মানুষ তার নেতার পেছনে উপস্থিত হবেন। পৃথিবীতে মানুষ যে নেতার অনুসরণ করবে পরকালে সে ওই নেতার পেছনে দাঁড়াবে। অতএব পৃথিবীতে বুঝে শুনে ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন করার আহ্বান জানান চরমোনাই পীর।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত ১ কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছিল। আজ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুঃসময়ে তাদের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

চরমোনাই পীর বলেন, মানুষ মৃত্যুর পর রাস্তা হল দু’টি। একটি হলো জান্নাত অপরটি জাহান্নাম। কুরআন-হাদিস অনুযায়ী নিজের জীবন গঠন করে কবরে যেতে পারলে জান্নাতের আশা করা যায়। কবরে চরমোনাই পীরের মুরিদদের আলাদা কোনো পরিচয় থাকবে না। চরমোনাই মাহফিলে কাউকে জান্নাতবাসী হওয়ার নিশ্চয়তা দেয়া হয় না। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার জন্য সমস্ত হারাম বর্জন করতে হবে।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।

সাইফ আমীন/এএম/জেআইএম