লিবিয়ায় নির্যাতনের শিকার মোমিনুলের চোখে আজও ভয়ের ছাপ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৫:৫৯ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৬:১৩ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭
লিবিয়ায় নির্যাতনের শিকার মোমিনুলের চোখে আজও ভয়ের ছাপ

একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষ পাড়ি জমায় বিদেশে। সেখানে গিয়ে অপহরণ হয়ে নির্মম নির্যাতন সইতে হবে এটা কারই বা জানা। অনেকে আবার মুক্তিপণের কবলে পড়েন। এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি গ্রামের হতভাগ্য যুবক মোমিনুল ইসলামের জীবনে। ভাগ্য বদলের জন্য ২০১২ সালে বৈধভাবে লিবিয়াতে যান মোমিনুল ইসলাম। ২০১৭ সালের ৪ আগস্ট লিবিয়া থেকে অপহরণ হন তিনি। দীর্ঘ ৬ মাস আটক রেখে তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। আর নির্যাতনের সেই ভিডিও ইন্টারনেটে পাঠিয়ে বাড়ির মানুষদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। লিবিয়ার সেনাবাহিনী মোমিনুলকে উদ্ধার করে দেশে পাঠালেও মোমিনুল হারিয়েছেন চলাফেরা করার শক্তি। চোখে-মুখে ভয়ের ছাপ আর নির্যাতনের চিহ্ন তার সমস্ত শরীরে।

জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে মোমিনুল ইসলাম বলেন, লিবিয়া থেকে আমাকে চার বাঙালি ও দুই লিবিয়ীয় অপহরণ করেছিল। লিবিয়ার ত্রিপলি থেকে ধরে ছাপারতা নামে আরেকটা প্রদেশ নিয়ে যায়। সেখানে খুব নির্যাতন করতো তারা। আগুন দিয়ে পোড়াতো, প্লাস্টিক গলিয়ে আমার শরীরে ফেলতো, হাতে পায়ে পেটাতো। এসব ভিডিও ধারণ করে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতো ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এরপর চাঁদা দাবি করে ১০ লাখ। বাড়ির সর্বস্ব বিক্রি করে ৮ লাখ টাকা দেয় আমার পরিবার। পরবর্তীতে আরও ৫০ লাখ টাকা দাবি করে।

ss

মোমিনুল ইসলাম বলেন, অপহরণের সঙ্গে জড়িত টাঙ্গাইল জেলার ডুবাইল গ্রামের সরোয়ার, বাগবাড়ী গ্রামের আমজাদ আলী, সিলেট জেলার ফজলুল করিম সেই সঙ্গে লিবিয়ার তিনজন। নির্যাতনের কথা কী বলবো- দিনে তিনবার পেটাতো আর একবার অল্প খেতে দিতো আর শুধু টাকা চাইতো। নির্যাতনের চিহ্ন আমার শরীরে দেখুন।

মোমিনুলের বাবা আব্দুল আজিজ সরদার বলেন, এ ঘটনায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও একটি মানিলন্ডারিং মামলা করি। পরবর্তীতে মামলাটি সিআইডি হেডকোয়ার্টার তদন্ত করে। পরে লিবিয়ার সেনাবাহিনী মুক্তিপণের টাকাসহ দুই লিবীয় ও এক বাংলাদেশিকে আটক করে মোমিনুল ইসলামকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে পাঠায়।

ss

গত বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) মোমিনুল বাড়িতে ফিরলেও হারিয়েছেন চলাফেরা করার শক্তি, উঠে দাঁড়াতে পারেন না এখন। লিবিয়ায় আটক দুই লিবিয়ীয় অপহরণকারীকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড ও সিলেটের ফজলুল করীমকে ১৫ বছর কারাদণ্ড প্রদান করেছে সে দেশের সেনাবাহিনী। তবে সরোয়ার এখনো পলাতক।

ছেলের এমন ঘটনার বিচার দাবি করে মোমিনুলের বাবা আজিজুল ইসলাম আরও বলেন, আমি সরকারের কাছে বিচার চাই আমার ছেলেরে পঙ্গু করে দেছে আমি এর বিচার চাই।

ss

স্থানীয় কাশিমাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রউফ জাগো নিউজকে বলেন, বৈধপথে বিদেশ গিয়ে অপহরণের স্বীকার হয় মোমিনুল। নির্যাতনের চিহ্ন তার সমস্ত শরীরে। বাংলাদেশি ও লিবিয়ার দুই দল সন্ত্রাসী তাকে আটক করে মুক্তিপণ নিয়েছে। জীবিত উদ্ধার হয়ে মোমিনুল দেশে ফিরেছে এটা ভাগ্যের ব্যাপার। যারা বিদেশে কাজ করে তারা যেন নিরাপদে কাজ করতে পারে এমন যেন বির্যাতনের শিকার না হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটা আমাদের দাবি।

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আব্দুল মান্নান জাগো নিউজকে বলেন, লিবিয়ায় মোমিনুল অপহরণ হওয়ার পর তার বাবা আমার কাছে এসেছিলেন আইনি সহায়তা পাওয়ার জন্য। আমি পরামর্শ প্রদান করি এবং একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তাছাড়া টাঙ্গাইলের এক নারীকে আট লাখ টাকাও দেয়। সে নারীও আটক হয়েছে। এরপর মানিলন্ডারিং একটা মামলা হয়। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছেন।

আকরামুল ইসলাম/বিএ