একমাত্র সন্তানকে বাঁচাতে গণমাধ্যম অফিসে ছুটছেন বাবা

মাহাবুর আলম সোহাগ
মাহাবুর আলম সোহাগ মাহাবুর আলম সোহাগ , সহকারী বার্তা সম্পাদক (কান্ট্রি ইনচার্জ)
প্রকাশিত: ০৬:১১ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৮

তিন বছর বয়সী একমাত্র সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে গণমাধ্যমকে শেষ ভরসা হিসেবে বেছে নিয়েছেন বাবা হামিদুল হক। এর আগে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের অফিসে ছেলের চিকিৎসার সব প্রমাণাদি নিয়ে হাজির হলে পত্রিকাগুলো গুরুত্ব দিয়েই শিশু মাওসুফুল হক ত্বকির অসুস্থতার সংবাদটি প্রকাশ করে। এতে কিছুটা সাড়াও পেয়েছেন তিনি। কিন্তু পুরো অর্থ আজও জোগার করতে না পারায় ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারছেন না এ বাবা। কারণ, ছেলের চিকিৎসার জন্য দরকার প্রায় ১৭ লাখ টাকা। তবে, তিনি ৫ লাখ টাকা জোগার করলেও এখনও ঘাটতি থাকছে ১২ লাখের।

আর এ কারণে গণমাধ্যমের আশ্রয় নিয়েছেন হামিদুল হক। তিনি মনে করেন একজন বাবার অসহায়ত্বের কাহিনী গণমাধ্যমে প্রচার হলে হৃদয়বান মানুষগুলোর কেউ না কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।

সেই ভরসায় বুধবার বিকেলে জাগো নিউজের কার্যালয়ে হাজির হন শিশু মাওসুফুল হক ত্বকির অসহায় বাবা হামিদুল হক।

তিনি বলেন, জন্ম থেকেই ত্বকির হৃৎপিণ্ড ছিদ্র। পরে তার ভালভ দুটিও নষ্ট হয়ে গেছে। প্রথম অবস্থায় মতিঝিলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, আদ-দ্বীন হাসপাতাল ও জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে ত্বকির চিকিৎসা নেয়ার পরও কোনো লাভ হয়নি। এরপর ২০১৫ সালের মার্চে তাকে ভারতের নারায়ানা হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে প্রায় দুই মাস চিকিৎসা নেয়ার পর টাকা শেষ হওয়ার আগে আগে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাই। তারা জানায় ত্বকির বয়স ৩ বছর পূর্তি হওয়ার পর তার অপারেশন করা যাবে এজন্য বাংলাদেশি প্রায় ১৭ লাখ টাকা প্রয়োজন। এরপর থেকে টাকা জোগারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি।

ত্বকির বাবা বলেন, আমার আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল। এক ব্যবসায় প্রায় ২০ লাখ টাকা লোকসান হওয়ার পর নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। বিক্রি করার মতো কোনো সম্পত্তিও নেই যে, বিক্রি করবো। ইতোমধ্যে ছেলের চিকিৎসা করাতে প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ করেছি। এখনও ছেলের ওষুধ ও সংসারের খরচ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছি। জানি না শেষ পর্যন্ত টাকা জোগার করতে পারবো কি-না।

হামিদুল হক বলেন, বিয়ের ১০ বছর পর জন্ম হয়েছে ত্বকির। তার জন্মের সময় আমাদের পরিবারে আনন্দের কমতি ছিল না। যখনই জানতে পারলাম ছেলে আমার অসুস্থ তখন থেকে তাকে বাঁচানোর যুদ্ধে নেমেছি।

jagonews24

রাজধানীর আরামবাগে একটি প্রেসের এ কর্মচারী বলেন, চাকরি করে যা পাই তা দিয়ে মাস শেষে আমার ছেলের সবগুলো ওষুধও কিনতে পারি না। মাঝে মধ্যে গণমাধ্যমে দেখি অনেকেই অসহায়দের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। আমিও একজন সাহায্য প্রত্যাশী। প্লিজ আমার সন্তানকে বাঁচাতে আমাকে সাহায্য করুন।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা : হামিদুল হক আজিম, সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ১২১-০০০-২৬২৯৭, সাউথইস্ট ব্যাংক, প্রিন্সিপাল শাখা মতিঝিল। মোবাইল নম্বর : ০১৮১৬-৬৯১০৬৯ (বিকাশ করা)।

এমএএস/আরআইপি