লেটব্লাইটে দিশেহারা কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ১১:০১ এএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮

অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহ ও শীতে রংপুর অঞ্চলে আলুখেতে ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে লেটব্লাইট (নাবি ধ্বস) বা পচন রোগ। এই রোগের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের কৃষক। এতে রংপুর বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ কৃষকসহ বর্গাচাষিরা পড়েছেন বিপাকে। পচন রোগের কারণে আলুর পাতায় কালো ফোসকা পড়ে মরে যাচ্ছে তরতাজা উঠতি সবুজ গাছ। এ রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়লে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন কৃষিবিদরা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রংপুর জেলায় ৫১ হাজার ২৭৫ হেক্টর, লালমনিরহাটে ৫ হাজার ৩৮৫ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ৬ হাজার ২৩১ হেক্টর, নীলফামারীতে ২২ হাজার ২৭০ হেক্টর ও গাইবান্ধায় ৭ হাজার ৫৮৭ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর বেশি। কৃষকরা ওই সব জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু চাষ করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত রংপুর অঞ্চলে ২১ হেক্টর জমিতে লেটব্লাইট রোগ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে ১১ দশমিক ২ হেক্টর, গাইবান্ধায় ৩ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ১ দশমিক ৫ হেক্টর, লালমনিরহাটে ২ দশমিক ৭ হেক্টর ও নীলফামারীতে ৬ হেক্টর জমিতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রংপুর আঞ্চলের উদ্যান বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ খোন্দকার মেসবাহুল ইসলাম জানান, রোগ প্রতিরোধী মান সম্পন্ন জাত ব্যবহার না করে বাড়িতে রাখা বীজ ব্যবহার করায় লেটব্লাইট রোগ অধিক হারে দেখা দিয়েছে। বীজ থাকলেই হবে না, সেটা মান সম্পন্ন কি না তা ক্ষতিয়ে দেখতে হবে।

jagonews24

তিনি বলেন, এই রোগ থেকে বাঁচতে প্রথমে জমিতে সেচ দেয়া বন্ধ করতে হবে। মেনকোজেব ও মেটালাক্সিল গ্রুপের ছত্রাশনাশক ওষুধ অনুমোদিত মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও পাওয়ার স্প্রে মেশিন দিয়ে আলু গাছের নিচের পাতায় স্প্রে করতে হবে এবং আক্রান্ত খেত আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলতে হবে।

অপরদিকে বুড়িরহাট, বাহাদুরসিংহ, গোয়ালু, অভিরাম, মনোহরপুর, তামপাট, মহিন্দা, জোড়ইন্দা, নব্দিগঞ্জ, সাহেবগঞ্জ, আরাজী তামপাট, কাইদাহারা, হারাগাছ, দেউতিসহ জেলার অধিকাংশ এলাকার কৃষক আলুখেত রক্ষায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষকরা আক্রান্ত আলুখেতে ছত্রাকনাশক স্প্রে করেও সুফল পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।

মনোহরপুর এলকার কৃষক আবেদ আলী, বদরগঞ্চের শফিকুল ইসলাম, গঙ্গাচড়ার মতি মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, গত বছর দুই বিঘা জমিতে আলু আবাদে ২০ হাজার টাকার মতো খরচ হলেও এবার সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় বিঘা প্রতি অন্তত চার হাজার টাকা খরচ বেড়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, এ ব্যাপারে কৃষকদের সচেতন করার লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ আলুর নাবিধ্বস রোগ দমনে কৃষকদের করণীয় বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে। সেই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে যোগাযোগও অব্যাহত রাখা হয়েছে। কৃষি সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার জন্য কৃষকদের কৃষি বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

জিতু কবীর/এফএ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :