ঘুষ না দেয়ায় হয়রানি, পাউবো’র ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৬:০৪ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৮

দুই লাখ টাকা ঘুষ না দেয়ায় পুলিশ দিয়ে হয়রানির অভিযোগে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীসহ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

একইসঙ্গে ঘুষ চাওয়ার ঘটনায় মধ্যস্থতাকারী (দালাল) হিসেবে আগৈলঝাড়ার এক ব্যক্তিকেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আগৈলঝাড়া উপজেলার পশ্চিম বাগধা এলাকার বাসিন্দা ওবায়েদুল খান বাদী হয়ে বরিশাল সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি করেন। আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন মামলাটি গ্রহণ করে দুর্নীতি দমন কমিশন বরিশাল আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন- বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ইরফান, গৌরনদী সার্কেলের সহকারী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী করিম আলী, সার্ভেয়ার ফরিদ উদ্দিন, মধ্যস্থতাকারী (দালাল) আগৈলঝাড়া উপজেলার পশ্চিম বাগধা এলাকার হাবিব তালুকদার।

বাদী পক্ষের আইনজীবী ও জেলা আইজীবী সমিতির সম্পাদক মো. মোখলেসুর রহমান বাচ্চু মামলার বরাত দিয়ে জানান, বাদী ওবায়েদুল খানের ভাই মনির খান একই এলাকার রানা গাইন ও তার স্বজনদের কাছ থেকে ২০১৫ সালে ৫৮ শতক জমি কিনেন। বর্তমান মাঠ জরিপে ৬১৩৭ দাগে ৪৩ শতক জমি ভাই মনির খানের নামে রেকর্ড পেয়েছেন। কিছু দিন আগে ওই জমি বালু ফেলে ভরাট কাজ শুরু করেন।

ভরাটের খবর পেয়ে পাউবোর সহকারী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান ১৮ জানুযারি ভরাটকৃত জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি করে তাদের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। এরপর জমির মলিক মনির খান স্থানীয় ইউপি সদস্য মিন্টু মিয়াকে নিয়ে ওই কর্মকর্তার কাছে সব কাজগপত্র দেখাতে চাইলেও প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান কোনো কাগজপত্র না দেখে ইউপি সদস্যের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। চাহিদানুয়ায়ী টাকা না দেয়ায় প্রকৌশলীর মাহাবুবুর হমান গত বৃহস্পতিবার পুলিশ দিয়ে তাদের ভরাট কাজ বন্ধ করে দেয় এবং মামলার হুমকি দেয়।

বাদী মনির খান মামলায় আরও উল্লেখ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা শুধু তাদের কাছ থেকে নয়, স্থানীয় মো. জামাল সরদার, ফজলে সরদার, মোতালেব সরদার, মো. রতন মিয়া, ধলু খান, দেলোয়ার খান, ফারুক খান, চুন্নু, সেকেন্দার মিয়া, ইদ্রিস সরদার, তাজেল সরদারসহ অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে অবৈধভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে স্থায়ী ঘর তুলে বসবাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, বিরোধীয় জমি অবশ্যই পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তাদের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করার প্রশ্নই ওঠে না। যদি টাকা চাওয়া হতো তাহলে কাজ বন্ধের জন্য পুলিশ ডাকতাম না। এছাড়া ওই সময় অনেক কর্মকর্তারা আমার সঙ্গে ছিলেন। তারাও বিষয়টি জানতেন।

সাইফ আমীন/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :