দুই বছরেই বরিশাল গ্রিন সিটি পার্কের বেহাল দশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৭:১২ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৮

নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় উদ্বোধনের দুই বছর না যেতেই বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যান সংলগ্ন গ্রিন সিটি পার্কটির এখন বেহাল দশা।

পার্কের ২টি দোলনা, একমাত্র রোলার রাইডার, হাতি, ঘোড়া, বাঘ, কুকুর ও ড্রাগনসহ অন্যান্য ৯টি খেলানা ভেঙে গেছে। সেগুলো এখন ব্যবহার অনুপযোগী।

পার্কের প্রবেশ পথের সম্মুখে স্থাপনকৃত বৈদ্যুতিক তুলা গাছ সম্প্রতি ভেঙে পড়েছে। পার্কের চারপাশে ৬১টি সিকিউরিটি বাল্বের এক তৃতীয়াংশ নেই। দু’টি এলইডি বাল্ব দীর্ঘদিন ধরে বিকল।

এছাড়া বাথরুমের অবস্থা শোচনীয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে দুর্গন্ধে বাথরুম ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পার্কের প্রবেশদ্বারের টাইলসও ভেঙে উঠে গেছে।

এদিকে, চারপাশের সীমানাপ্রাচীরেও বিশাল বিশাল ফাটল ধরেছে। দরপত্র অনুযায়ী পার্কের ভেতরে এবং প্রবেশদ্বারে চীন থেকে উন্নতমানের ঘাস এনে লাগানোর কথা থাকলেও স্থানীয় ঘাস লাগানোর কারণে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।

এছাড়া অযত্ন-অবহেলার পার্কজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। বসার জায়গাগুলোতে জমেছে ধুলোর আস্তর। ভাঙা দোলনায় চড়ে আহত হচ্ছে শিশুরা।

বিসিসি’র প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এক কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৫ সালে গ্রিন সিটি পার্কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৬ সালের ২৯ জানুয়ারি পার্কটি উদ্বোধন করেন মেয়র আহসান হাবিব কামাল। শিশুদের বিনোদনের জন্য পার্কটি উদ্বোধনের পর প্রশংসিত হয়েছিলেন মেয়র কামাল।

তবে উদ্বোধনের ৪ মাসের ব্যবধানে ‘রোলার রাইডার’ ভেঙে যায়। এরপর গ্রিন সিটি পার্কে নিম্নমানের রাইডসসহ সামগ্রী স্থাপনের বিষয়টি দর্শনার্থীদের নজরে আসতে শুরু করে।

একাধিক দর্শনার্থী জানান, শিশুদের খেলার জন্য রাইড বা দোলনাগুলো ভালো না থাকায় পার্কে এলে তাদের সময় কাটে গল্প করে। ভাঙা দোলনায় প্রায়ই ব্যথা পাচ্ছে শিশুরা। পুরো পার্কেই আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। পড়ে আছে খাবারের খালি প্যাকেট ও নানা রকম কাগজ। এ কারণে পার্কটির প্রতি শিশুরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

বিসিসি’র প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রিন সিটি পার্ক নির্মাণের কাজ পান বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শাহিন সিকদারের মালিকানাধীন সিকদার কনস্ট্রাকশন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহিন সিকদার বলেন, তার লাইসেন্স নিয়ে কাজটি অন্য একজন করেছিলেন। এর বেশি কিছু বলার নেই। কাজটি কে করেছেন জানতে চাইলে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেন শাহিন সিকদার।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, তিনি বিসিসিতে যোগদানের আগেই গ্রিন সিটি পার্ক প্রকল্পের বিল তুলে নিয়েছেন ঠিকদার। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

সাইফ আমীন/এএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :