মাদরাসাছাত্রের মাথা কেটে হত্যা, খাদেম রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৫:২১ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

রংপুরের ভগিবালাপাড়া বউ বাজার এলাকার রহমানিয়া নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসা ও লিল্লাহ্ বোডিংয়ের হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আব্দুল্লাহ্ তালহা (১৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মসজিদের খাদেম নাজমুল হককে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শনিবার বিকেলে ভগিবালাপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খাদেম নাজমুল হককে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান। শুনানি শেষে কোতোয়ালি আমলি আদালতের বিচারক তারিক হাসান ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানা পুলিশের এসআই জাবেদ আলী রোববার দুপুরে আসামি নাজমুলকে রিমান্ডে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত তালহার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খাদেম নাজমুলসহ ৯ জনকে আটক করে পুলিশ।

অন্যরা হলেন, ওই মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মেহেদী হাসান, সহকারী শিক্ষক হাফেজ ইমরান হোসেন, ভগিবালাপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন তাসকিরুল ইসলাম, মাদরাসার শিক্ষার্থী আজাহার, রেজাউল করিম, মানিক, আরমান ও ফেরদৌস।

শুক্রবার দুপুরে তালহার মাথা উদ্ধারের পর ওইদিন তার চাচা জাহিদুল ইসলাম অজ্ঞাত নাম দিয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে খাদেম নাজমুলের সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

রংপুর সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট খান জাহান আলীর ছেলে নিহত তালহা। প্রায় ৩ বছর ধরে স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বিথীসহ সন্তানদের নিয়ে ওই মাদরাসার ৫০০ গজ দূরে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন খান জাহান আলী।

এদিকে, রোববার দুপুরে ভগিবালাপাড়াস্থ খান জাহান আলীর ভাড়া বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশীদের কাছে জানতে চাইলে কেউই তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানাতে পারেননি।

তবে নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, নিহত তালহা সার্জেন্ট খান জাহান আলীর প্রথম স্ত্রীর সন্তান। প্রথম স্ত্রী কোথায় থাকেন সে বিষয়ে কিছু জানেন না। পুলিশের হাতে আটক ব্যক্তিদের কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হওয়ায় তালহাকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

রহমানিয়া নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসা ও লিল্লাহ্ বোডিংয়ের সভাপতি সামসুল হক জানান, নিহত তালহা হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে তাকে পাগড়ি পড়ানোর কথা ছিল।

তিনি আরও জানান, গত বুধবার দুপুরে বাড়ি থেকে খাবার খেয়ে মাদরাসায় আসে তালহা। এরপর আসরের নামাজের ছুটিতে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেও বেড়িয়ে যায়। মাগরিবের নামাজের সময় তালহা মাদরাসায় অনুপস্থিত ছিল। এশার নামাজের সময় সে না আসায় বিষয়টি তার বাবা রংপুর সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট খান জাহান আলীকে অবগত করা হয়। পরে ওই রাতে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে খান জাহান আলী কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির সূত্র ধরে পুলিশ গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করে। একপর্যায়ে ওই দিন বিকেলে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় চট দিয়ে মোড়ানো মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের পর শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তালহার মাথা সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

জিতু কবীর/এমএএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :