নেশাখোরদের আড্ডাস্থল রংপুর শহীদ মিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৯:৫২ এএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

শুরু হয়েছে ভাষার মাস। বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা থেকে উৎসারিত এক আন্দোলন যার নাম একুশে ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের এই দিনটি থেকেই বাঙালি ক্রমে ক্রমে ধাবিত হয়েছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের দিকে। গৌরবের সেই ভাষা আন্দোলনে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতিচারণে নির্মিত রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পবিত্রতা আজও রক্ষা হয়নি। দিনের বেলা কুকুরের উপদ্রব আর সন্ধ্যা নামলেই নেশাখোরদের আড্ডাস্থল হয়ে উঠেছে এ শহীদ মিনার।

রোববার দুপুরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, ভাসমান মানুষের মল ত্যাগের নিরাপদ স্থান শহীদ মিনারের পেছনের পূর্ব পাশের জায়গা। ময়লা-আবর্জনা আর মলমূত্রে ভরে গেছে পুরোটাই। এখানেই শেষ নয়, ৫-৭টি কুকুর অবলীলায় দৌড়ঝাঁপে মত্ত হয়ে উঠেছে শহীদ মিনারের কোলঘেঁষে। ছুটছে একপাশ থেকে অন্যপাশে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের মতে, কুকুরগুলো শহীদ মিনারের উপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থাকলেও দেখার কেউ নেই।

জানা গেছে, ৫২ পরবর্তী শহীদ দিবস উদযাপনে ১৯৫৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ঐক্যবদ্ধ তৎপরতায় এক রাতের শ্রমে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে কাদামাটি দিয়ে তৈরি হয় প্রথম শহীদ মিনার। সেই কাদামাটির শহীদ মিনার একাত্তরে পাকিস্তানি সেনারা ভেঙে ফেলে। স্বাধীনতার পর নতুন করে শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়, এখনও তা বর্তমান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংস্কৃতিক কর্মী রেজাউল করিম জীবন বলেন, এটা অত্যন্ত লজ্জার একটি বিষয়। দিনের বেলা শহীদ মিনারে একদিকে কুকুরের উপদ্রব আরেকদিকে বখাটেদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা। সন্ধ্যা নামলেই নেশাখোরদের আড্ডাস্থল হয়ে ওঠে এ শহীদ মিনার চত্বর। অথচ এসব প্রতিকারে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগই নেই। বছর জুড়ে অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকলেও ভাষা আন্দোলনের এ মাসেও শহীদ মিনারের এমন দূরাবস্থা যেমন লজ্জার তেমনি কষ্টেরও।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল বলেন, ভাষার জন্য আমাদের সূর্য সন্তানরা প্রাণ দিয়েছেন। জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত। তাদের স্মৃতি বিজড়িত শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের। তাই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

জানতে চাইলে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, জায়গাটি জেলা প্রশাসনের। ওই এলাকায় কোনো পাবলিক টয়লেট না থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। সিটি কর্পোরেশন থেকে শুধু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়। সার্বক্ষণিক রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য একজন কর্মচারি নিয়োগ করার বিষয়টি গুরত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এছাড়া ওই এলাকায় পাবলিক টয়লেট নির্মাণে জেলা প্রশাসনের দৃষ্টিও কামনা করেন তিনি।

জিতু কবীর/এফএ/জেআইএম