রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা : ৩ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৭:০৫ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৭:১১ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

রংপুরের সদর উপজেলার সদ্যপুস্করনী ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সেকেন্দার আলী বাদশা (৫৭) নামে এক মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই মামলায় সাতজনের ৬ মাস করে কারাদণ্ড ও ছয়জনকে খালাস দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নিহত মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার আলীর বড় ভাই আব্দুল খালেক (৬৯), খালেকের ছেলে রাশেদ মিয়া (২৭) এবং সেকেন্দার আলীর ছোটভাই মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে মিটন ওরফে লিটন (৩০)। রায়ে ওই তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মাধবপুর গ্রামের মৃত ফজল উদ্দিনের ছেলে সেকেন্দার ও তার ভাইদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল।

ঘটনার দিন ২০১৪ সালের ৯ জুলাই দুপুর ২টার দিকে আব্দুল খালেক তার ছেলেদেরসহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে সেকেন্দার আলীর ভোগদখলীয় জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে যায়।

এ সময় সেকেন্দার আলী ও তার ছেলেরা বাধা দিলে আব্দুল খালেকের হুকুমে অভিযুক্ত মিটন ও রাশেদসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে গুরতর আহত হয় সেকেন্দার আলী।

পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরের দিন ১০ জুলাই নিহত সেকেন্দার আলীর ছেলে কামরুজ্জামান লাবু কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানা পুলিশের এসআই মনোয়ার হোসেন ওই বছরের ৫ নভেম্বর ১৬ জনের নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ৩ বছরের বেশি সময় ধরে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থেকে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে তিনজনের যাবজ্জীবন ছাড়াও আসামি আব্দুল খালেকের অপর ছেলে আমিরুল (৩৫), আজাদুল (৩৩), রায়হান (৩০), সেকেন্দার আলীর ভগ্নিপতি আব্দুল কুদ্দুস (৭০), কুদ্দুসের ছেলে মঞ্জু মিয়া (৩৫), মাহাবুব (২৯) ও বাবুকে (২৩) ৬ মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারক। একই মামলায় মনোয়ার, মোক্তার, মোস্তা, কামরুল, সেলিম ও বুলবুল ওরফে বুলু মিয়াকে খালাস দেয়া হয়েছে।

আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রশীদ চৌধুরীসহ কয়েকজন আইনজীবী এবং বাদী পক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল মালেক।

জিতু কবীর/এএম/আইআই