আতঙ্কের নগরী খুলনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০১:০৪ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
ছবি-ফাইল

৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। নগরীর ৩৬টি স্থান নির্ধারণ করে সেখানে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। মোতায়েন করা হয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি পুলিশ।

এদিকে দলীয় প্রধানকে সাজা দেয়া হলে তা প্রতিহত করতে কাফনের কাপড় পরে রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল। এ ছাড়া কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে তা মেনে চলারও ঘোষাণা দিয়েছে তারা।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে পুলিশকে সহায়তা করার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। আর তাতেই আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার নগরীতে পরিণত হয়েছে বিভাগীয় শহর খুলনা। সর্বত্র থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। রাস্তাঘাট অনেকটা ফাঁকা ফাঁকা। মোড়ে মোড়ে চলছে র‌্যাব-পুলিশের টহল, তল্লাশি ও গ্রেফতার অভিযান। তবে খুলনা মহানগরীতে মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে কেএমপি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

কেএমপির মুখপাত্র ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মনিরা সুলতানা বলেন, মহানগরীর রূপসা ঘাট, জেলখানা ঘাট, পথের বাজার, গল্লামারী, রয়্যাল মোড়, শিববাড়ি মোড়, ডাকবাংলো মোড়সহ ৩৬টি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সাদা পোশাকে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত মহানগরীতে সব ধরনের (বৈধ) আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত ১২ থেকে ১৫ শ’ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।

বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, মহানগরীর প্রবেশের সবগুলো পথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। নগরীর নিরাপত্তায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশ সদস্যের সংখ্যাও। বাড়ানো হয়েছে টহল। থমথমে অবস্থার কারণে মার্কেট খুললেও দোকানপাট খুলেছে কম। পথচারী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তল্লাশির নামে ও অপরাধীদের ধরতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মনিরা সুলতানা বলেন, জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। খুলনার ৩৬টি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৩ জন বিএনপি নেতাকর্মী ও ১ জামায়াত নেতাকে আটক করেছে।

বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সরকার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে জনসমর্থন হারিয়ে ফেলেছে। তারা অগণতান্ত্রিক পন্থায় বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে। ভীত এই সরকার পুলিশ দিয়ে ধড়পাকড়ের নামে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি ও গ্রেফতার করছে।

তিনি বলেন, আমরা সবধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। তাছাড়া কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা পালন করা হবে।

এদিকে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি বলেন, আমাদের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই রায় কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। তাই আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যে রায়ই হোক না কেন তা মেনে নেয়া উচিত। তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করে আপনারা দেশের ক্ষতিসাধন করবেন না।

আলমগীর হান্নান/এমএমজেড/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :