৯ শিশুর চলে যাওয়ার চার বছর

উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল
প্রকাশিত: ১১:৪১ এএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ১২:০৮ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

‘মুজিবনগর ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে বাড়ি,
যশোর জেলার চৌগাছাতে পড়ল খাদে গাড়ি।
এক মুহূর্তের দুর্ঘটনা হলো সর্বনাশের মূল,
ঝরিয়ে দিলো বেনাপোলের ৯টি তাজা ফুল।’

কালের পরিক্রমায় ফিরে এলো চৌগাছার ঝাউতলা ট্রাজেডি। ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল ট্রাজেডির চার বছর পূর্ণ হলো আজ। এ দিনে মুজিবনগর থেকে শিক্ষা সফর শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ শিশু শিক্ষার্থী। আহত হয় আরও ৪৭ শিশু।

নিহত শিশু শিক্ষার্থীদের স্মরণে বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। শোক দিবসের চার বছর পূর্ণ উপলক্ষে বেনাপোল পৌরসভার আয়োজনে বেনাপোল ফুটবল মাঠ থেকে শোক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া নিহতদের স্মরণে সমাধিতে ভুল দেয়া হয়। আলোচনা সভা, দোয়া, মিলাদ-মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে বেনাপোলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দিনটি স্মরণে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন করা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌরমেয়র আশরাফুল আলম লিটন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে মুজিবনগরে যায়। সেখান থেকে চৌগাছা হয়ে বেনাপোলে ফেরার পথে ঝাউতলা কাঁদবিলা পুকুর পাড়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৯ শিশু শিক্ষার্থী এবং আহত হয় আরও ৪৭ জন শিশু।

jagonews24

ঘটনাস্থলে নিহতরা হলো- বেনাপোল পৌরসভার ছোট আঁচড়া গ্রামের সৈয়দ আলীর দুই মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া (১০) ও তার বোন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী জেবা আক্তার (৮), ছোট আঁচড়া গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মিথিলা (১০), রফিকুল ইসলামের মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রুনা আক্তার মীম (৯), লোকমান হোসেনের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শান্ত (৯), গাজিপুর গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির হোসেন (১০) ও নামাজ গ্রামের হাসান আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি (১১)।

১৩ দিন পর ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ছোট আঁচড়া গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ইকরামুল (১১) সর্বশেষ দুর্ঘটনার ৩২ দিন পর ১৯ মার্চ ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় একই গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়ানুর রহমান (১১)।

মোঃ জামাল হোসেন /এমআরএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :