হামলাকারীর প্রতি আমার মায়া হয় : জাফর ইকবাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৪:২৫ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৮ | আপডেট: ০৪:৩৩ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৮

হামলাকারী ফয়জুল হাসানের প্রতি আমার এক ধরনের মায়া হয় মন্তব্য করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

বুধবার দুপুর দেড়টায় শাবি ক্যাম্পাসে ফিরে নিজ বাসভবনের নিচে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দীর্ঘ ১১ দিন চিকিৎসা শেষে ক্যাম্পাসে ফিরে জাফর ইকবাল বলেন, আমি জানতাম না দেশের মানুষ আমাকে এত ভালোবাসে। এ আঘাত না পেলে বিষয়টি আমার অজানা থাকতো।

হামলার তদন্ত সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে জাফর ইকবাল বলেন, আমি মৃত্যুর খুব কাছাকাছি থেকে ফিরে এসেছি। তাই আমার পার্সপেক্টিভ চেঞ্জ হয়ে গেছে। যার কারণে কারো প্রতি আমার ভেতরে কোনো রাগ নেই। সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি তদন্ত করে বের করবে কারা এ হামলার পেছনে রয়েছে। এটা সম্পর্কে আমার কিছুই বলার নেই।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে হামলাকারী ফয়জুল হাসানের প্রতি আমার এক ধরনের মায়া হয়। সে এতই বিভ্রান্ত। এ পৃথিবীতে এত সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করা সম্ভব। সেগুলো না করে সে মানুষ হত্যা করে ইসলামের সেবা করার চেষ্টা করছে। আমি আশা করছি আমার ছেলেরা যেন এভাবে বিভ্রান্ত না হয়। এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক ও মেয়ে ইয়েশিম ইকবালও উপস্থিত ছিলেন।

jagonews24

এর আগে দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিটে অধ্যাপক জাফর ইকবাল সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিমানবন্দর থেকে সোজা শিক্ষক কোয়ার্টারে নিজ বাসভবনে পৌঁছান তিনি।

এদিকে, বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে (হামলার স্থান) সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর উদ্দেশ্যে কথা বলবেন তিনি। ড. ইকবালের ক্যাম্পাসে ফেরা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) ফয়সল মাহমুদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা করে নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জাফর ইকবাল স্যারের নিরাপত্তা আগের চেয়ে বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে এর সংখ্যা বলা যাবে না।

জালালাবাদ থানা পুলিশের ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, জাফর ইকবাল স্যারের নিরাপত্তায় এখন থেকে ৫১ জন পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। এরা পোশাকে ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন।

ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক রিতেশ্বর তালুকদার বলেন, সবাই আলাদাভাবেই স্যারের কাছে চিঠি লিখেছে। এছাড়া স্যারকে নিয়ে আঁকা বিভিন্ন ছবিও দেয়া হবে। মুক্তমঞ্চে স্যার সবার সঙ্গে কথা বলবেন এবং পরবর্তীতে নিজ বিভাগে আসবেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টায় ক্যাম্পাসের মুক্ত মঞ্চে ইইই ফেস্টিভাল চলাকালীন সময়ে ছুরিকাহত হন ড. জাফর ইকবাল। ওদিন রাতে ওসমানী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১১ দিন চিকিৎসা শেষে আজ সকালে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।

ছামির মাহমুদ/এএম/আরআইপি