শেবাচিম হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৪:৪০ পিএম, ২৩ মার্চ ২০১৮

বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতি গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগে স্বজনদের ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ধর্মঘট ডেকেছেন।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে ধর্মঘটের ঘোষণা দিলেও গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই তারা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শের-ই- বাংলা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন দেড় সহস্রাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের অপারেশন কক্ষে প্রসূতি গৃহবধূ খাদিজা আক্তার (২৩) ও গর্ভে থাকা ৯ মাসের সন্তানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। খাদিজা আক্তার পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. শাকিলের স্ত্রী। তাদের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার চরনাবাদ গ্রামে।

পুলিশ কনস্টেবল মো. শাকিল জানান, তার স্ত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হলে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শেবাচিম হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক এসে চিকিৎসা দিলেও রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে নার্সদের পরমর্শে তার স্ত্রীকে দ্রুত ওটিতে নিয়ে যাওয়ার পর দেড় ঘণ্টায়ও কোনো চিকিৎসক সেখানে যাননি। ইন্টার্ন চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে তাদের ওটিতে যাওয়ার অনুরোধ জানালে তারা সিনিয়র চিকিৎসক ছাড়া সেখানে যেতে অস্বীকার করেন। এ সময় শফিকুল ইসলাম এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের হাতধরে টানাটানি করলে তাকে আটকে বেদম মারধর করেন অন্যান্য চিকিৎসকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ইন্টার্ন চিকিৎসরা না যাওয়ায় ওটিতে প্রসূতি খাদিজা বেগমের মৃত্যু হলে সেখানে অপেক্ষারত স্বজনরা ওটির দরজা-জানালার গ্লাস ভাঙচুর ও সেখানে থাকা চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হন। চিকিৎসকরা পাল্টা হামলা চালিয়ে স্বজনদের বেদম মারধর করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নার্স জানান, খাদিজা বেগমের অবস্থা খারাপ থাকায় তাকে ওটিতে নেয়ার জন্য তারা বিকেলেই চিকিৎসকদের অবহিত করেন। ওই সময়ে ওটির দায়িত্বে থাকা প্রসূতি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. শারমিন ওটিতে ছিলেন না। তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এসে রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপরই স্বজনরা ওটিতে ভাঙচুর করে। ওই ঘটনার পর থেকেই অঘোষিত ধর্মঘট শুরু করেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

এদিকে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের নিচতলায় প্রধান ফটকের করিডোরে সংবাদ সম্মেলন করে কনস্টেবল মো. শাকিলকে গ্রেফতারসহ তিন দফা দাবি না মানা পর্যন্ত কাজে যোগদান না করার ঘোষণা দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তাদের অপর দুটি দাবি হলো, হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ও গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন।

ইন্টার্ন ডক্টর অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সম্পাদক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রসূতি খাদিজা আক্তারের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। তাকে ওটি টেবিলে নেয়ার পরই মৃত্যু ঘটে।

শেবাচিম হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আব্দুল কাদের জানান, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আওলাদ হোসেন জানান, কনস্টেবল মো. শাকিলকে অভিযুক্ত করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষে ওয়ার্ড মাস্টার বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অন্যদিকে কনস্টেবল মো. শাকিল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অবহেলায় স্ত্রী মৃত্যু ও কক্ষে আটকে রেখে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি নিচ্ছেন। হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সাইফ আমীন/আরএআর/পিআর