শিলাবৃষ্টিতে ফের মাথায় হাত শেরপুরের কৃষকদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শেরপুর
প্রকাশিত: ০৯:৩৫ এএম, ৩১ মার্চ ২০১৮

শেরপুরে শুক্রবার কালবৈশাখি ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বেশ কিছু এলাকায় উঠতি বোরো ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, নকলা ও শেরপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো আবাদ ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা জানান, স্থানীয়দের অনেকেই ফোন করে কালবৈশাখি ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে তাদের বোরো ফসলের বেশ ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরপর দুইবার এ উপজেলার কৃষকরা বোরো ও আমন ফসল ঘরে তুলতে পারেনি। চলতি বোরো মৌসুমে আগের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে কৃষকরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। কিন্তু বছরের শুরুতেই কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির ছোবলে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফ ইকবাল বলেন, অফিস বন্ধ থাকায় এবং আবহাওয়া খারাপ থাকায় প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি।

এদিকে নালিতাবাড়ী উপজেলায় শিলার আঘাতে ৭ জন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। আহতরা হলেন- নালিতাবাড়ীর মরিচপুরান ইউনিয়নের গোজাকুড়া গ্রামের সুর্বনা খাতুন (৩০), ফাইজুদ্দিন (৬০), মোকছেদুর রহমান (৪০), রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের কাউয়াকুড়ি গ্রামের মো. আবু দারদা (২৩), রাজিয়া খাতুন (৪০), হাবিবুর রহমান (৪০) ও বেলাল হোসেন (৬৫)। আহতদের মধ্যে বেলাল হোসেন নালিতাবাড়ী উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের মোকবুল হোসেন (৩৫) জানান, তিনি জীবনে এতো বড় আকারের শিলা দেখেননি। প্রতিটি শিলার ওজন ছিল প্রায় ৫০০-৬০০ গ্রাম।

তারাগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও গোজাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা ইমদাদুল হক কাজল জানান, তার এলাকার অধিকাংশ মানুষের টিনসেড ঘরের চালা শিলার আঘাতে ফুটো হয়ে গেছে। ফের বৃষ্টি হলে এসব বাড়িঘরে থাকা সম্ভব হবে না।

নালিতাবাড়ী উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) আব্দুলল্লাহ আল-মামুন বলেন, শিলাবৃষ্টির পর হাসপাতালে ৭ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। যাদের শিলার আঘাতে মাথা ফেটে গেছে। সবারই সেলাই লেগেছে।

হাকিম বাবুল/এফএ/এমএস