অভিমানি রেখার পাখি প্রেম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৮:৪৫ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০১৮

‘এখানে কেউ কারও না, যার জন্য দেশ ছাড়ছি, সেও নাই। নিজে না খাইয়া যাদের খাওয়াইছি, তারাও নাই। তাই পাখিরে খাওয়াই। এরা বেইমানি করে না। ছাইড়া যায় না।’

অভিমানি কণ্ঠে জাগো নিউজকে কথাগুলো বলছিলেন, রেখা বেগম (৪৫)। যিনি বরিশাল থেকে স্বামীর সঙ্গে অনেক বছর আগে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। কিন্তু এখন স্বামী তার কোনো খোঁজ নেন না। সন্তানরা বিয়ে করে আলাদা থাকেন।

রেখাকে চট্টগ্রাম নগরীর মিসকিনশাহর মাজারের আশপাশে প্রায়ই দেখা যায়। তার সঙ্গে থাকে একটি পাখির খাঁচা। খাঁচায় রয়েছে একটি ময়না ও একটি চড়ুই পাখি। কারও কাছে কিছু চান না তিনি, মাজারে আসা ভক্ত বা পথচারীরা খুশি হয়ে কিছু দিলে তা নেন। নিজে খান, খাওয়ান বোবা পাখি দুটিকে।

pakhi1

রেখা জানান, এক সময় তার সংসার ছিল। স্বামী-সন্তানরা সঙ্গে থাকত। তিনিও টুকটাক কাজ করতেন। তবে এখন কেউ নেই। স্বামী কোনো খোঁজ নেন না। সন্তানরা বিয়ে করে আলাদা থাকেন। চন্দনপুরার আশপাশে কোনো একটা বস্তিতে থাকেন। নাম জানাতে পারলেন না।

তিনি বলেন, ‘স্বামী থাইকাও নাই। সন্তানরা খবর নেয় না। বাবার মাজারে পইড়া থাকি, যা পাই তা নিজে খাই, ময়না আর চড়ুইরে খাওয়াই। ওরা পাখি হইলেও আমারে ভালোবাসে।’

রেখার কথায়, ‘ওরা পাখি সত্য, তয় তারা সব বোঝে। আমার দুঃখ বোঝে ওরা। যখনই কিছু পাই পাখিগুলোর সঙ্গে ভাগ করে খাই।’

pakhi1

এ ময়না কোথায় পেলেন ? জানতে চাইলে রেখা বলেন, ‘কারেন্টের সর্ট খাইছে। মইরা যাইতে লইছিল। কুড়িয়ে নিছি। একটা পাউ নষ্ট হই গেছে। এহন এক পাউয়ে খাড়াইয়া থাকে। তয় খুব ভালা পাখিডা। কয়দিন আগে আরও একটা চড়ুই পাইছি। মাজারের ধারে। অরেও আইনা রাখছি। ময়না-চড়ুই এক লগে থাকে। খায়তে দিলে খায়, না খাইতে পাইলে ফ্যাল ফ্যাল কইরা খালি চাইয়া থাকে।’

মিসকিনশাহর মাজারের সহকারী খাদেম মাওলানা জামাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে এসে একটা বস্তা পেতে মাজারের সিঁড়ির কাছে বসে থাকেন এই নারী। মাজারের ভক্তরা বিভিন্ন সময় নানান কিছু নিয়ে আসেন। অন্য সব ফকির-মিসকিনের মতো তাকেও এসব খাবার দেয়া হয়। ভাত বা রুটি জাতীয় কিছু পেলে তিনি তা পাখিদেরও খাওয়ান, নিজেও খান। তবে কারও কাছ থেকে চেয়ে খেতে কখনো দেখিনি। কারও সঙ্গে কথাবার্তাও তেমন একটা বলেন না।’

জেডএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :