মেরে রাস্তায় ফেলে দিল স্বামী, চিকিৎসার ব্যবস্থা করল পুলিশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০১:১৪ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০১৮

যৌতুকের জন্য মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে কাজল (২৫) নামে এক গৃহবধূ রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। পথচারীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় সিএনজি অটোরিকশায় তুলে দেন হাসপাতালে নেয়ার জন্য। তবে সঙ্গে কোনো স্বজন না থাকায় জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগেই পড়েছিলেন কাজল। এ অবস্থায় এক পুলিশ সদস্য তার স্বজন হয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।

বুধবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও এখনো পর্যন্ত কাজলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে দেখতে আসেননি। শয্যাপাশে কেবল তার ছোট তিন শিশু সন্তান ও দুই ভাই রয়েছেন। কাজল জেলার নবীনগর উপজেলার কাইতলা ইউনিয়নের কোনাউরা গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে।

বৃহস্পতিবার সকালে সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, মেঝেতে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন কাজল। মারধরের কারণে তার মাথা ও চোখ ফুলে গেছে। ব্যাথায় ছটফট করছেন তিনি।

কাজল জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ভাদুঘর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আরিফের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর জানতে পারেন আরিফ মাদকাসক্ত। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই কাজলের উপর শারিরীক নির্যাতন করতো। কয়েকবার কাজল তার পরিবারের কাছ থেকে টাকাও এনে দিয়েছেন। আরিফ কোনো কাজকর্ম না করায় সংসার নিয়ে বিপাকে পড়েন কাজল। ভাইদের কাছ থেকে টাকা এনে সংসার চালাতেন তিনি।

কাজ না করলে কিভাবে সংসার চলবে- এমন কথা বললেই কাজলের উপর নির্যাতন করত আরিফ। কাজল অন্যের বাড়িতে কাজ করতে চাইলেও আরিফ বাধা দিত। সম্প্রতি কাজলের কাছে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা কেনার টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে আরিফ। তবে কাজলের পরিবার অটোরিকশা কেনার জন্য টাকা দেয়ার সামর্থ ছিল না। গত মঙ্গলবার নেশা করে সারারাত বাড়ির বাইরে ছিল আরিফ। বুধবার সকালে বাড়ি আসার পর কাজল সারারাত কোথায় ছিল জানতে চাইলে তাকে ব্যাপক মারধর করে বাড়ি বাইরে রাস্তায় ফেলে দেয়। মারধরের কারণে অচেতন হয়ে রাস্তায় শুয়েছিলেন কাজল।

পরে পথচারীরা তাকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে দেন হাসপাতালে নেয়ার জন্য। তবে কোনো স্বজন না থাকায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগেই পড়েছিলেন কাজল। পরে বিষয়টি জানতে পেরে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) ওয়াচার মোয়াজ্জেম হোসেন তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

কাজলের বড় ভাই মামুন জাগো নিউজকে বলেন, পুলিশ সদস্য মোয়াজ্জেম আমাদের ফোন করে জানিয়েছেন কাজলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাদের কিছু জানায়নি। এখনও পর্যন্ত কাজলের শ্বশুরবাড়ির কেউই তার কোনো খোঁজ নেননি। যৌতুকের টাকার জন্য তারা আমার উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। আমরা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনাটি জানিয়েছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

ডিএসবির ওয়াচার মোয়াজ্জেম হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমি হাসপাতালে এসেছিলাম অন্য একটি বিষয়ে খোঁজ নিতে। এসে দেখি জরুরি বিভাগে অক্সিজেন লাগানো অবস্থায় পড়ে আছে কাজল। পরে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক চিকিৎসা করানোর পর তাকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তির ব্যবস্থা করেছি। পরবর্তীতে কাজলের পরিবারের লোকজনকে ফোন করে খবর দিয়েছি। বিষয়টি সদর মডেল থানার ওসিকেও জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নবীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে মোয়াজ্জেমের কাছে ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। তারপরও বিষয়টি আমরা দেখছি।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/আরআইপি