ধামরাইয়ে র‌্যাবের গুলিতে তিন ডাকাত নিহত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক সাভার (ঢাকা)
প্রকাশিত: ০৮:১৩ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৮:৩৯ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

ধামরাইয়ের উত্তর কেলিয়া এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে তিন ডাকাত নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। এ সময় তিনটি পিস্তলসহ বেশ কিছু গোলাবারুদ, চাপাতি, রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাগের ভেতরে বোমা রয়েছে বলে ধারণা করছে র‌্যাব।

জানা গেছে , মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ধামরাই থেকে কালামপুর সংযোগ সড়কের উত্তর কেলিয়া নামক (বংশী নদী ঘেষা) স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব-২ এর লেফ. কর্নেল আনোয়ারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি শৈলান সুরমা এলাকার একটি এনজিও থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যাংকে রাখার জন্য ধামরাইয়ের উদ্দেশে আনা হবে। এমন সংবাদের প্রেক্ষিতে ডাকাত দলের সদস্যরা এই (ঘটনাস্থলে) জায়গায় অবস্থান নেয়। পরে আমরাও (র‌্যাব বাহিনী) আমাদের মতো করে অবস্থান নিয়ে পথিমধ্যে দুই ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করি এই ফাঁকে তারা (ডাকাত দল) আশপাশে থেকে আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়ে। পরে আমরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়ি। এক পর্যায়ে আমাদের সঙ্গে ডাকাত দলের বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয় এবং ডাকাত দলের তিনজন সদস্য গুলিবিদ্ধ হন।

এসময় আমাদের র‌্যাব সদস্য আ. রাজ্জাক এবং সোহেল মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। পরে তাদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, চাপাতি, রাম দাঁ ও কিছু গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলের পাশের জমিতে কর্মরত অবস্থায় কৃষক আবু সাঈদ (৫১) জানান, গুলির শব্দ শুনে রাস্তায় এসে দেখি কয়েকজন লোক পিস্তল হাতে এদিক সেদিক ঘুরাফেরা করছে, পরে আমাকে হাতের ইশারাতে দূরে যাওয়ার কথা বললে দেখি তাদের সঙ্গে র্যাবের পোশাক পড়া ২/৩ জন লোক বন্ধুক হাতে দাঁড়িয়ে আছে, পাশেই র‌্যাব এবং পরে পুলিশের গাড়ি আসে।

লেগুনার ড্রাইভার মোহাম্মদ আলী (৩০) ও পাশের বাড়ির খলিলুর রহমানের মেয়ে ইশরাত জাহান (২৮) বলেন, গুলির শব্দ পেয়ে আমরা রাস্তায় বেড়িয়ে আসি। পরে বন্ধুক হাতে র্যাবের কিছু সদস্য আমাদেরকে দূরে চলে যেতে বললে আমরা ভয়ে চলে যাই। পরে আরও কিছু গুলির শব্দ শুনতে পাই।

এ বিষয়ে ধামরাই থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাইদ আল মামুন জানায়, ঘটনাটি জানতে পেরেই আমরা থানার ফোর্স নিয়ে ওইস্থানে যাই। এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনও তাদের বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এরা সক্রিয় ডাকাত দলের সদস্য এবং র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তারা আর বেঁচে নেই। ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।

আল-মামুন/এমএএস/এমএস