বাবু সোনা হত্যা : দীপা ও কামরুল বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৭:৪২ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৭:৪৭ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৮

রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা (৫৮) হত্যা মামলায় গ্রেফতার স্নিগ্ধা সরকার দীপা ও কামরুল ইসলামকে নগরীর তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তি) আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ বৃহস্পতিবার বিকেলে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বুধবার দীপা ও কামরুলকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে গ্রেফতারের দিন থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে।

দীপা ও কামরুল নগরীর তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছিলেন নিহত আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা। তার মৃত্যুর পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তি) আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফকে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালে একই দিনে তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে যোগদেন কামরুল ও দীপা। ওই সময় স্কুলের সভাপতি ছিলেন কামরুলের বিমাতা ভাই নুরুল ইসলাম জাফরী এবং সহ-সভাপতি ছিলেন দীপার স্বামী বাবু সোনা।

চাকরিকালীন সময়ে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন দীপা ও কামরুল। একপর্যায়ে পথের কাটা দূর করতে বাবু সোনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ওই দুইজন।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রাতে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বাবু সোনাকে হত্যা করেন দীপা ও কামরুল। এ ঘটনায় নিহত বাবু সোনার ছোটভাই সুশান্ত ভৌমিক বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ মামলায় দীপা ও কামরুলসহ তাদের দুই ছাত্র সবুজ ও রোকনুজ্জামান ছাড়াও বাবু সোনার ব্যক্তিগত সহকারী মিলন মোহন্তকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে মিলন গত ১৩ এপ্রিল রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন ওয়ার্ডে মারা যান। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে বাবু সোনাকে হত্যার দায় স্বীকার করেন দীপা ও কামরুল।

জিতু কবীর/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :