পণ্য তোলেননি রাজশাহীর ৩৮৭ টিসিবি ডিলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৩:২২ পিএম, ১৮ মে ২০১৮
পণ্য তোলেননি রাজশাহীর ৩৮৭ টিসিবি ডিলার

রোজায় নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়নি রাজশাহী অঞ্চলে। নির্ধারিত ৩৭৮ ডিলারের একজনও তোলেননি বরাদ্দকৃত পণ্য। গত বছর তালিকার মাত্র ১২১ ডিলার পণ্য উত্তোলন করেছিলেন।

তবে ১৯ ভ্রাম্যমাণ ডিলারের মধ্যে গত বছর ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করেছেন প্রত্যেকেই। আর এবার এ পর্যন্ত পণ্য বিক্রি করছেন মাত্র ১০ জন। এতে ভেস্তে যেতে বসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থার পণ্য বিক্রি কার্যক্রম। এর প্রধান কারণ ডিলার তালিকার অসঙ্গতি। বিষয়টি স্বীকার করে বিদ্যমান অসঙ্গতি দূর করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, গত ৬ মে থেকে একযোগে শুরু হয়েছে টিসিবির পণ্য বিক্রি। শুরু থেকেই রাজশাহী নগরীর পাঁচটি, বগুড়া ও নাটোরের দুটি করে এবং নওগাঁর একটি পয়েন্টে ট্রাকে বিক্রি চলছে। দুটি করে বিভাগের প্রত্যেক জেলায় ট্রাকে বিক্রি করার কথা ছিল টিসিবির।

টিসিবি বলছে, ট্রাকে বিক্রির বাইরেও রাজশাহী নগরীতে ৭৯ এবং জেলায় ২৬ জন ডিলারের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রির কথা। ডিলার তালিকায় রয়েছে-২০ জন সমবায়ী ছাড়াও বগুড়ায় ৬৬ জন, নওগাঁয় ৪৮ জন, পাবনায় ৪২ জন, সিরাজগঞ্জে ৪০ জন, নাটোরে ২৮ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২২ জন, জয়পুরহাটে ৭ জন। বিক্রি শুরুর ১১ দিনেও বরাদ্দকৃত পণ্য উত্তোলন করেননি এসব ডিলার।

টিসিবির আঞ্চলিক অফিস জানিয়েছে, গত ৬ মে থেকে পণ্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ডিলারদের অনুকূলে। ট্রাক প্রতি প্রতিদিনের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৫শ কেজি পণ্য। এর মধ্যে ৭শ কেজি চিনি, ৬শ কেজি ডাল, ৭শ কেজি ছোলা এবং ৪শ লিটার সয়াবিন তেল। এক সঙ্গে তিন দিনের বরাদ্দ যাচ্ছে ট্রাকে।

অন্যদিকে ডিলারদের প্রত্যেককে প্রথম দফায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪শ কেজি চিনি, ৩শ কেজি ডাল, ৩শ কেজি ছোলা, ৪শ লিটার সয়াবিন তেল এবং ১৫০ কেজি খেজুর। বরাদ্দের প্রথম কিস্তি উত্তোলনের সময়সীমা শেষ হবে আসামী ১১ জুন। এরপর দ্বিতীয় কিস্তির বরাদ্দ দেবে টিসিবি।

এদিকে শুক্রবার থেকে কেজিতে ৫ টাকা কমিয়ে প্রতিকেজি মশুর ডাল ৫০ টাকায়, ছোলা ৬৫ টাকায় এবং ২০ টাকা কমিয়ে খেজুর ১০০ টাকায় বিক্রি করেছে টিসিবি। তবে আগের দামেই প্রতিকেজি চিনি ৫৫ টাকায় এবং প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৮৫ টাকায় বিক্রি হবে। টিসিবির প্রতিকেজি পণ্য বিক্রি করে ডিলাররা কমিশন পাচ্ছেন সাড়ে ৪ টাকা করে।

ডিলাররা দাবি করে আসছিলেন, শুরু থেকে বাজারে এসব পণ্যের দাম প্রায় কাছাকাছিই ছিল। নগরীর বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজার ঘুরে এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে।

ডিলাররা জানিয়েছেন, একেতো বাজার দর কম তার সঙ্গে থাকছে পরিবহন খরচ। এছাড়া পণ্যের মান নিয়ে ভীতি থাকায় ক্রেতাদের তেমন আগ্রহ নেই টিসিবির পণ্যে। এতে লোকসানের আশঙ্কায় পণ্য উত্তোলন বন্ধ রেখেছেন ডিলাররা। বাজার পরিস্থিতি দেখে পণ্য উত্তোলন করবেন নিয়মিত ডিলাররা।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন নগরীর ভদ্রা মোড়ের মেসার্স সাত্তার জেনারেল স্টোরের সত্ত্বাধিকারী আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, পণ্যের দাম কমে যাওয়ায় পণ্য উত্তোলনের কথা ভাবছেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত কারণে বাজার পরিস্থিতি দেখেই পণ্য তুলবেন।

তবে ডিলাররা বরাদ্দকৃত পণ্য কেন উত্তোলন করছেন না- সেই কারণ খুঁজে পাচ্ছে না রাজশাহী টিসিবি। প্রতিষ্ঠানটির উপ-ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী ও রাজশাহী অফিস প্রধান প্রতাপ কুমার।

তিনি বলেন, তারা প্রত্যেক ডিলারকে এসএমএসের মাধ্যমে বরাদ্দের বিষয়টি জানিয়েছেন। আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত প্রথম কিস্তির পণ্য বরাদ্দ দেয়া হবে ডিলারদের মাঝে।

টিসিবির পণ্যের মানের প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, টিসিবির পণ্য নিঃসন্দেহে মান উত্তীর্ণ। ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রগুলোয় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছেন ভোক্তারা। কোথাও কারও কোনো অভিযোগ-আপত্তি নেই। খোলা বাজারে নিত্য ব্যবহার্য পণ্য বিক্রিতে রমজানে বাজারদর এখনও নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। এবারও টিসিবির পণ্য বিপণন কঠোর নজরদারির ভেতর থাকছে।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/আরএআর/পিআর