প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নসহ আটক ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৪:৫২ পিএম, ২৬ মে ২০১৮ | আপডেট: ০৯:৩৯ পিএম, ২৬ মে ২০১৮

বরিশালে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এদের মধ্যে তিন নারী পরীক্ষার্থী রয়েছেন। আটকদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য ৩টি আধুনিক ব্লুটুথ ডিভাইস এবং ৮টি মোবাইল ফোন ও নগদ দেড় লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় মহানগর পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- এ চক্রের মূলহোতা ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল ইসলাম বাপ্পী, শহিদুল ইসলাম সোহেল, ফাতেমা বেগম, নাজমিন নাহার মনি, এলিনা বেগম রুপা, আনোয়ার হোসেন ফকির, আহসান হাবিব হাওলাদার, জহির উদ্দিন জুয়েল, জায়েদা খাতুন ও বাদল বেপারি।

রেজাউল ইসলাম বাপ্পী বরিশাল নগরীর সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি। শনিবার বরিশালে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের অবস্থানের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে নগরীর হেমায়েত উদ্দিন সড়কে ইম্পেরিয়াল আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায় পুলিশ।

সেখান থেকে তিন পরীক্ষার্থীসহ মোট সাতজনকে আটক করা হয়। হোটেলের ৪০৬ নম্বর কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় নগদ দেড়লাখ টাকা, ৩টি আধুনিক ব্লুটুথ ডিভাইস, ৮টি মোবাইল ফোন।

আটকদের তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর নিউ সার্কুলার সড়কে ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল ইসলাম বাপ্পীর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে এবং ওই বাসায় অবস্থানকারী পরীক্ষার্থী জায়েদা খাতুন ও তার স্বামী বাদল বেপারীকে আটক করা হয়।

ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, আটক হওয়া পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পুলিশকে জানায়, নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের সহায়তা করার জন্য প্রতিজন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা আদায় করেছে ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল ইসলাম বাপ্পী ও তার সহযোগী শহীদুল ইসলাম। এ জন্য দালালি বাবদ দেড়লাখ টাকা পেয়েছে সোহেল।

পুলিশ কমিশনার জানান, শুক্রবার রাতে পুলিশি অভিযানে চক্রটির কয়েকজন সদস্য আটক হলে অন্যরা আত্মগোপন করে। ফলে শনিবার শান্তিপূর্ণভাবে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা এবং আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সাইফ আমীন/এএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :