অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু, পুলিশের আপসের প্রস্তাব

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৩:৫২ পিএম, ১৪ জুন ২০১৮

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের অবহেলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষকের নবজাতক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযোগের পরও ব্যবস্থা না নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আপসের প্রস্তাব দিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী চবির ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল আলম শাহীন। তিনি ওই নবজাকতের বাবা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত শুক্রবার (৮ জুন) আমার স্ত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হলে হাটহাজারী পৌরসভার আলিফ হাসপাতালের ভর্তি করাই। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডা. হাছিনা এসে পর্যবেক্ষণ করে ডেলিভারি হতে আরও সময় লাগবে বলে জানান। রাত ১২টার দিকে প্রচণ্ড রকমের প্রসব বেদনা উঠলে বিষয়টি আবারও ডা. হাছিনাকে অবহিত করি। তিনি বারবার আরও সময় লাগবে বলে জানান। এভাবে পুরো রাত প্রসব বেদনায় ছিল আমার স্ত্রী। কিন্তু ওই সময়টাতে কোনো ডাক্তার আমার স্ত্রীর পাশে ছিল না।

শহীদুল আলম শাহীন বলেন, পরে হাসপাতালের এমডি নাজিমকে কল করা হলেও তার সাড়া মেলেনি। পরে ডা. হাছিনাকে কল করা হলে তার নাম্বারও বন্ধ পাই। শনিবার (০৯ জুন) ভোরে আমার স্ত্রীকে লেবার রুমে নিয়ে যান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এক ঘণ্টা পর দায়িত্বরত ডাক্তাররা জানান, আমার বাচ্চা মৃত। কেন বাচ্চা মারা গেল জানতে চাইলে, তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে জানতে পারি, আমার স্ত্রীকে সংকটাপন্ন রেখে ডা. জেবুন্নেছা কেয়া ঘুমিয়ে ছিলেন। নার্স দিয়ে আমার স্ত্রীর ডেলিভারি করিয়েছেন।

এ ঘটনায় জড়িত ডা. জেবুন্নেছা কেয়া, ডা. হাসিনা আক্তার ও আলিফ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান শহিদুল আলম শাহীন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই হাটহাজারী থানায় অভিযোগ দিই। তারা তদন্ত করে ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার বিষয়টি জানতে পেরেও আপস করে দিতে চাইছে।

তবে এমন অভিযোগের বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর জাগো নিউজকে বলেন, আপসের বিষয়টি পুরোই ভিত্তিহীন। তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় আমরা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছি। ফলে এখন ময়নাতদন্তসহ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনের আগে বেলা ১১টার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনে এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে মানববন্ধন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন, ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের শিক্ষক ড. মোসলেম উদ্দিন মুন্না, সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক রিদোয়ান মোস্তফা, সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক শিপক কৃষ্ণ দেবনাথ, ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের শিক্ষক এনামুল হক নীল, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. বখতেয়ার উদ্দিন, ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের শিক্ষক জুয়েল দাশ, সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ উদ্দিন হায়দার, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মারুফ উল আলম ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের শিক্ষক ফয়েজ মুহাম্মদ তাইমুর।

আবদুল্লাহ রাকীব/আরএআর/পিআর