বিলুপ্তির পথে খাঁচায় মাছ চাষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৪:৩২ পিএম, ২৪ জুন ২০১৮ | আপডেট: ০৪:৩৬ পিএম, ২৪ জুন ২০১৮

মৎস্য খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি, আকস্মিক মহামারি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধিসহ নানা প্রতিকূলতার কারণে বরিশালের মুলাদীতে বিলুপ্ত হতে চলছে ভাসমান পদ্ধতির খাঁচায় মাছ চাষ।

প্রায় সাত বছর আগে শুরু হওয়া সম্ভাবনাময় মৎস্য চাষ ক্রমান্বয়ে কমতে কমতে চাষির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র তিনজনে। খাঁচার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫০টিতে। যা পাঁচ বছর আগে ছিলো ১২৩ জন মৎস্য চাষির ৮৫০টি খাঁচা।

স্থানীয়রা জানায়, ২০১১ সালে চরকমিশনার গ্রামের বাবুল খান বিদেশ থেকে ফেরত এসে রংপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুলাদী উপজেলার আড়িয়ালখাঁ নদীতে ভাসমান পদ্ধতিতে খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করেন। ছয় মাসের মধ্যে তিনি ব্যাপক সফলতা লাভ করায় স্থানীয় বেকার যুবকদের মাঝে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয় এবং তারাও প্রশিক্ষণ নিয়ে খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেন। ফলে ধীরে ধীরে ওই এলাকায় মাছ চাষির সংখ্যা বাড়তে থাকে।

খাঁচায় মাছ চাষ করে ব্যাপক সফলতা পাওয়ায় উদ্যোক্তা হিসেবে চরকমিশনার গ্রামের বাবুল খান ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী পদক পান। স্থানীয় যুবকদের সফলতা দেখে ২০১৬ সালে উপজেলা মৎস্য অফিস স্বল্প পরিসরে উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের সৈয়দেরগাঁও ও মৃধারহাট এলাকায় ভাসমান পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরুর জন্য দুই যুবককে খাঁচা দেন।

ওই বছরই আকস্মিক মহামারিতে খাঁচার মাছ মরে যাওয়ায় মৎস্য চাষিদের উৎসাহে ভাটা পড়ে। অনেক চাষির সব মাছ মরে যাওয়ায় তারা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না পারায় মাছ চাষ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি, নিম্নমানের খাবার, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, মাছের মূল্য কমসহ বিভিন্ন কারণে চাষির সংখ্যা কমতে থাকে।

চরকমিশনার এলাকার সাবেক মৎস্য চাষি ইব্রাহিম ফকির জানান, বাজারে মাছের উৎকৃষ্ট খাবার না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে খাঁচায় নিম্নমানের খাবার দিতেন। এতে মাছ যথাযথভাবে বৃদ্ধি পেত না। মৎস্য খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধিসহ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫-৬শ’ টাকা হওয়ায় মাছ চাষে লাভের পরিবর্তে লোকসান দেখা দেয়। তাই তিনি খাঁচায় মাছ চাষ বন্ধ করে দেন।

প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্ত সাবেক মৎস্য চাষি বাবুল খান জানান, মৎস্য খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও ভেজাল খাদ্যের জন্য আশানুরূপ সফলতা না পাওয়ায় তিনি মাছ চাষ বন্ধ করে দিয়েছেন।

একই এলাকার আদর্শ মৎস্য চাষি টিটু ভূইয়া জানান, ৩-৪ বছর আগে তার খাঁচার সংখ্যা ছিল প্রায় ১০০টি। মৎস্য খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ফলে লোকসান গুনতে গুনতে কুলিয়ে উঠতে না পারায় তিনি খাঁচার সংখ্যা ৫টি নামিয়ে এনেছেন। এভাবে চলতে থাকলে অন্যদের মতো তিনিও খাঁচায় মাছ চাষ ছেড়ে দেবেন বলে জানান।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, ভাসমান পদ্ধতিতে মাছ চাষিদের পরামর্শ দেয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই। এ খাতে সরকারের কোনো আর্থিক বরাদ্দ নেই। তবে নিম্নমানের খাদ্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া চাষিদের নিজস্ব পদ্ধতিতে উন্নত মৎস্য খাবার তৈরি করতে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া হবে।

সাইফ আমীন/এএম/আরআইপি