রাসিক নির্বাচনে ৫৩ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০২:৩৩ পিএম, ২০ জুলাই ২০১৮

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গের ৫৩টি অভিযোগ পড়েছে। এর মধ্যে প্রধান দুই মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের তরফ থেকেই হয়েছে ৪০ অভিযোগ। বাকি ১৩ অভিযোগ করেছেন দুই কাউন্সিলর প্রার্থী।

নির্বাচন দফতর বলছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা একে অন্যের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের এসব অভিযোগ এনেছেন। তবে তদন্তে গিয়ে এর সত্যতা মেলেনি। ফলে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে এসব অভিযোগ।

রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর জানিয়েছে, এ পর্যন্ত বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের কর্মী-সমর্থদের বিরুদ্ধে ২১ দফা অভিযোগ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও তার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অন্যদিকে, মেয়র প্রার্থী লিটন ও তার কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভাঙার ১৯ অভিযোগ দেয়া হয়েছে ধানের শীষের তরফ থেকে। গত ১৭ জুলাই পর্যন্ত দেয়া হয়েছে এসব অভিযোগ।

১৭ জুলাই সকালে ধানের শীষের প্রচারণায় ককটেল হামলার প্রেক্ষিতে সর্বশেষ লিখিত অভিযোগ দেন বুলবুলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপু।

লিখিত ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গণসংযোগ চলাকালীন নৌকা মার্কার সমর্থিত সন্ত্রাসীরা ধানের শীষের নেতাকর্মীদের ওপর পূর্ব পরিকল্পিত বোমা হামলা চালিয়েছে। এতে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান, একজন সাংবাদিকসহ বিএনপির ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী আহত হন।

তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশি অপতৎপরতা, নৌকার সমর্থকদের একের পর এক তাণ্ডবে আমাদের সমস্ত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা চরম শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিদ্যমান এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে কোনো নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। এসব ঘটনা প্রবাহ নির্বাচনী লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির অন্তরায়। এতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

এর আগের অভিযোগগুলো দেন অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপু। এসব অভিযোগে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী লিটনের বিরুদ্ধে ধানের শীষের ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার তুলে ফেলা, রাতে বাইক বাহিনীর মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা ছাড়াও ভোটারদের মধ্যে কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়।

ককটেল হামলার ঘটনায় ওই দিনই পাল্টা অভিযোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগও। ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ ধ্বংস করতে নিজেরাই ককটেল ফাটিয়ে আলোচনায় আসতে চেয়েছে বিএনপি। বিএনপি প্রার্থী ভোটারদের সহানুভূতি পেতে এই কাজ করেছেন।

তবে আওয়ামী লীগের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী বুলবুলের প্রধান নির্বাচন এজেন্ট তোফাজ্জল হোসেন তপু।

এরআগে লিটনের দাখিলকৃত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজনের ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো, অপপ্রচার, সাম্প্রদায়িক বিভেদ ছড়ানোর চেষ্টা ও কালো টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার অভিযোগ।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরসহ প্রচার সন্ত্রাস চালিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠ দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে। প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও সমর্থকদের সঙ্গে কী আচরণ করা প্রয়োজন তা মানছে না আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। একের পর এক রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহীতে ভোটারদের মধ্যে উন্নয়ন ইস্যুটি প্রধান হয়ে উঠেছে। এতে নৌকার পক্ষে জোয়ার দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নানাভাবে মিথ্যা অভিযোগ ও ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু তাতে তারা সফল হবে না। রাজশাহীর মানুষ এবার উন্নয়নকেই বেছে নেবেন। অযোগ্য কাউকে নগর ভবনে পাঠাবেন না।

এদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কমিশনের পদক্ষেপ সম্পর্কে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান জানান, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন পক্ষ থেকে মোট ৫৩টি অভিযোগ এসেছে। এগুলো পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। যেখানে যেমন প্রয়োজন, সেখানে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি দেখভালে মাঠে জেলা প্রশাসনের ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ পর্যন্ত ২২ কাউন্সিলর প্রার্থীকে বিভিন্ন অঙ্কে জরিমানা করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো মেয়র প্রার্থী বিচারের মুখোমুখি হননি।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এফএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :