রংপুরে বাসচাপায় স্কুলছাত্র নিহত : চালক ও হেলপার আটক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি রংপুর
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৮ | আপডেট: ০৯:৪০ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৮

রংপুর মহানগরীর দর্শনায় বাসচাপায় তানভীর আহমেদ জিয়ন (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র নিহতের ঘটনায় বাসের চালক ইনসান আলী শানু (৩৮) ও তার সহকারী (হেলপার) বাদশা মিয়াকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘাতক বাসটিও আটক করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর নগরীর মেডিকেল মোড় এলাকা থেকে বাসটি আটকের পর ওই দুইজনকে আটক করা হয়। ভাইবোন পরিবহন নামে বাসটি গাইবান্ধা-রংপুরে সড়কে চলাচল করতো।

শানু গাইবান্ধার সাদুল্ল্যাপুর উপজেলার তাহেরপুর এলাকার আব্দুস সামাদের এবং বাদশা একই জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার বাবর আলীর ছেলে।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কোতোয়ালি থানায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

পুলিশ সুপার জানান, বাসটির কাগজপত্র ঠিক থাকলেও হালকা যানবাহন চালানোর লাইসেন্স ছিল চালকের। আইনত একজন চালক হালকা যানবাহন চালানোর লাইসেন্স দিয়ে ভারী যান চালাতে পারেন না। এ কারণে বাসের মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, বাসটির মালিক গাইবান্ধার পলাশবাড়ির গোলপাড়া এলাকার শরিফা বেগম নামে এক নারী।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহানগরের দর্শনা শুঁটকি আড়তের সামনে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বাসচাপায় স্কুলছাত্র তানভীর আহমেদ জিয়ন নিহত হয়। জিয়ন বদরগঞ্জের লোহানীপাড়া ইউনিয়নের মন্ডলের হাট গ্রামের লোহানীপাড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের ছেলে এবং নগরীর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনার প্রতিবাদে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয়রা। এ সময় জিয়নের মরদেহ নিতে আসা অ্যাম্বুলেন্সও ভাঙচুর করে তারা। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ১০/১২ টি গাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি, টিয়ারশেল ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করে। এতে পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জিতু কবীর/আরএআর/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :